বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আর মাত্র কয়েক মাসের অপেক্ষা। তারপরেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026)। এই নির্বাচনের আগে রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে আগাম প্রস্তুতিতে নেমেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এখনও ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হলেও, বাংলার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লিতে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা।
দিল্লিতে হাইভোল্টেজ বৈঠক (West Bengal Assembly Election 2026)
সোমবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের নোডাল অফিসার, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ের আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা। সূত্রের খবর, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার আরও বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে আবেদন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সিইও। গত নির্বাচনে কত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল, রাজ্য পুলিশের মোট শক্তি কত, এই সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে ঠিক কত কোম্পানি বাহিনী পাওয়া যেতে পারে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বাংলার ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) দফা কমানো হবে কি না, তা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। যদি ভোটের দফা কমানো হয়, তবে একই সময়ে বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগবে, এই যুক্তিই কমিশনের সামনে তুলে ধরেছে রাজ্য। মোট কতগুলি স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিত হবে, তার ওপর ভিত্তি করেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর চূড়ান্ত সংখ্যা ঠিক করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২৯৪টি আসনে ভোট হয়েছিল ৮ দফায়। কমিশন সূত্রে খবর, ২০২৬ সালে দফা কমানোর পরিকল্পনা চলছে। সে ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক নয়, এককালীন বেশি সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন পড়বে। নজর থাকবে মূলত স্পর্শকাতর বুথগুলিতে। বৈঠক থেকে বাহিনীর রুট ম্যাপ তৈরি, স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং ভোটের দিন নিরাপত্তা পরিকল্পনার কাজ এখনই শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নজরদারি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কথাও উঠে এসেছে আলোচনায়। এই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরীর নির্বাচনী আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।
কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, কমিশন বাহিনী ঠিক করবে, তবে পর্যাপ্ত বাহিনী থাকা প্রয়োজন। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবি, বাহিনী যেন বুথের ভেতরেও মোতায়েন থাকে। পাল্টা তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, একুশেও বাহিনী ছিল, যত বাহিনীই আসুক মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন।

আরও পড়ুনঃ কম দফায় ভোটের প্রস্তুতি! নববর্ষের আগেই বিধানসভা নির্বাচন শেষ করতে চায় কমিশন
তবে এই সবকিছুর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট লক্ষ্য হল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) যেন স্বচ্ছ ও হিংসামুক্ত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক শেষ পর্যন্ত কত কেন্দ্রীয় বাহিনী দিতে পারে, তার ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত ভোটের নির্ঘণ্ট ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি হবে। সেই লক্ষ্যেই এখন থেকেই খুঁটিনাটি প্রস্তুতিতে সক্রিয় কমিশন।












