বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শুক্রবার সকালে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল বাংলা। রেশন দুর্নীতি মামলায় (Ration Scam) ইডির (Enforcement Directorates) অভিযান ঘিরে একেবারে ধুন্ধুমার বেঁধে গেল উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 parganas) সন্দেশখালিতে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ কর্মাধ্যক্ষের শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশিতে গিয়ে তৃণমূল নেতার অনুগামীদের হাতে মার খেয়ে এলাকা ছাড়া ইডি আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ভাঙচুর করা হল গাড়িও। আর গোটা এই বিষয়টি এবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Home Minister Amit Shah) ফোনে জানালেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
এদিন টুইট করে বিরোধী দলনেতার আবেদন, নৈরাজ্যকে ধ্বংস করতে ব্যবস্থা নিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রাজ্যপাল। টুইটে শুভেন্দু লেখেন, “ভয়ঙ্কর। পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত। উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় ইডি আধিকারিক ও সিআরপিএফ জওয়ানদের উপর নৃশংস হামলা। আমার সন্দেহ দেশবিরোধী হামলাকারীদের মধ্যে রোহিঙ্গারা রয়েছে।”
পোস্টে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, রাজ্যপাল, ইডির ডিরেক্টর ও সিআরপিএফকে ট্যাগ করে এই গুরুতর পরিস্থিতি বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিষয়টি এনআইএ-র (NIA) তদন্ত করা উচিত বলেও সোশাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু।
শুভেন্দুর টুইট: https://x.com/suvenduwb/status/1743134557912916176?s=48&t=H-35pzf62xpOvQoyCyAm4w
কি ঘটেছিল? শুক্রবার সাতসকালে ইডির অভিযান ঘিরে একেবারে ধুন্ধুমার বেঁধে যায় উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে। এদিন উত্তর ২৪ পরগনায় দুই তৃণমূল নেতার (TMC Leaders) বাড়িতে হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল।
আরও পড়ুন: জ্যোতিপ্ৰিয় থেকে কালীঘাটের কাকু এবার বিপাকে সবাই! রাজ্যকে বিরাট নির্দেশ প্রধান হাইকোর্টের
ইডি আধিকারিকদের ওপর হঠাৎ চড়াও তৃণমূল নেতার অনুগামীরা। কেন না জানিয়ে হানা দিয়েছে ইডি? এই প্রশ্ন তুলেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। ক্রমশ্য উত্তপ্ত হতে থাকে পরিস্থিতি। একসময় সবকিছু এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে এলাকা ছাড়া হতে বাধ্য হন ইডি আধিকারিকরা। ইডিকেই এলাকা ছাড়া করল তৃণমূল নেতার অনুগামীরা (TMC Workers)। তাদের ক্ষোভের চোটে পিছু হটল ইডি।
শুক্রবার সকালে ইডির একটি দল উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যের শ্বশুরবাড়িতে হানা দেয়। ওদিকে অন্য একটি দল পৌঁছে যায় সন্দেশখালির এক তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখের বাড়ি। শাহজাহানের সরবেড়িয়ার বাড়িতে হানা দেন ইডির আধিকারিকরা।
তবে তৃণমূল নেতার বাড়িতে গিয়ে বারংবার ডাকাডাকি সত্ত্বে সাড়া মেলেনি কারও। সূত্রের খবর এরপর ১ ঘণ্টা অপেক্ষার পর কেন্দ্রীয় বাহিনী তল্লাশির জন্য বাড়ির তালা ভাঙার কাজ শুরু করে। আর তাতেই তাদের ওপর চড়াও হয় উত্তপ্ত জনতা।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ কর্মাধ্যক্ষের শেখ শাহজাহানের অনুগামীরা ভীড় করে ফেলে গোটা এলাকায়। হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী-সমর্থক শাহজাহানের বাড়ির সামনে জড়ো হন। ইডি হানার বিরুদ্ধে শুরু হয় বিক্ষোভ। এখানেই শেষ নয়, ইডির আধিকারিকদের মারধরও করেন তৃণমূল নেতার অনুগামীরা। ভাঙচুর চলে ইডি আধিকারিকদের গাড়ি। এরপর একদম ধাওয়া করে ইডি আধিকারিকদের এলাকা ছাড়া করেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। সাথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। আক্রান্ত হন একজন সাংবাদিকও।