বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি (ED Raid) ঘিরে এখনও উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর এক অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ উঠছে। বিষয়টি পৌঁছেছে আদালত পর্যন্ত। তদন্তে নেমেছে পুলিশ, আর রাজনৈতিক তরজাও দিন দিন তীব্র হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইডির অভিযানের (ED Raid) দিন রেজিস্টার বুকে আদৌ ইডি আধিকারিকেরা নিজেদের নাম লিখিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার সকালে ডিউটিতে থাকা তিন নিরাপত্তারক্ষীকেও তলব করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ঘটনার দিনের তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
কেন প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ইডি (ED Raid)?
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার কয়লাকাণ্ডে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। পুলিশ সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ইডি আধিকারিকেরা কারও সঙ্গে কথা না বলেই ভিতরে ঢুকে পড়েন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টে ইডি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের করা জোড়া মামলার শুনানি ছিল। তবে এজলাসে হৈ হট্টগোলের জেরে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলার শুনানি ১৪ তারিখ পর্যন্ত পিছিয়ে দেন।
এরপরই নতুন করে অভিযোগ তোলে বিজেপি। বিজেপির আইনজীবী নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারি সোশাল মিডিয়ায় একাধিক স্ক্রিনশট শেয়ার করে দাবি করেন, শুক্রবার সকাল থেকে তৃণমূলের লিগাল সেলের বিভিন্ন গ্রুপে বার্তা ছড়ানো হয়। সেখানে তৃণমূলের প্যানেলভুক্ত আইনজীবীদের শুনানির সময় ৫ নম্বর কোর্টে জমায়েত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার জেরেই আদালতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং শুনানি সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ বিজেপির। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ভিত্তিহীন।

আরও পড়ুনঃ জুনেই বাড়ছে মোবাইল রিচার্জ! জিও-এয়ারটেল-ভিআইয়ের সিদ্ধান্তে গ্রাহকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
এদিকে, আইপ্যাক তল্লাশিকাণ্ডের (ED Raid) সংঘাত পৌঁছে গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টেও। এই ঘটনায় CBI তদন্তের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। পাশাপাশি রাজ্য সরকারও সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে। সব মিলিয়ে, আইপ্যাক এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি ঘিরে প্রশাসনিক তদন্ত, আদালতের লড়াই এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা, সবকিছু মিলিয়ে বিতর্ক এখন চরমে।












