নিয়োগ দুর্নীতিতে তোলপাড়! এবার অভিষেকের ‘লিপ‌্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ এর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করছে ED

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নতুন বছরে ফুল অ্যাকশনে ইডি (ED)। এবার প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সংস্থা ‘লিপ‌্স অ্যান্ড বাউন্ডস’এর (Leaps and Bounds) অধীনে থাকা আটটি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল ইডি। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণের কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা  এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

   

এদিন আদালতে ইডি জানিয়েছে, নিয়োগ দুর্নীতির সাথে যোগসাযোগ রয়েছে বলে অভিযুক্ত সংস্থা ‘লিপ‌্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ ওই সম্পত্তির মূল্য আনুমানিক সাড়ে সাত কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বর মাসে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের সিইও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির খতিয়ান তলব করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট।

শুধুই অভিষেকই নয়, তার পাশাপাশি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের সমস্ত ডিরেক্টরের সম্পত্তির হিসেব দেখতে চান বিচারপতি সিনহা। একই সঙ্গে সংস্থার আয়-ব্যয়ের হিসাব ও শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত সংস্থার কর্মকাণ্ড জানতে চেয়ে রিপোর্ট তলব করে হাইকোর্ট। এরপর গত ১৪ ডিসেম্বর ইডির তরফে মুখবন্ধ খামে সেই জবাব জমা পড়ে হাই কোর্টে।

‘লিপ‌্স অ্যান্ড বাউন্ডস’ কিসের সংস্থা? আয়ের উৎস কী? এর লাইসেন্স ছিল কি না? কারখানা, যন্ত্রাংশের বিবরণ,’ কোম্পানির শেয়ারের তথ্য, সম্পত্তির খতিয়ান সমস্তটা বিশদে জানতে চেয়েছিলেন বিচারপতি। এই ইস্যুতেই অভিষেকের কাছে নথি চাওয়া হলে কিছু দিন আগেই ইডির কাছে সংস্থা সংক্রান্ত তথ্য জমা দিয়ে এসেছিলেন অভিষেক।

আরও পড়ুন: নতুন বছরে জোড়া বিপদে ‘কালীঘাটের কাকু’, এবার হাইকোর্টে ছুটল BJP, হঠাৎ যা হল… শোরগোল রাজ্যে

সেই সমস্ত নথির প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার আদালতে ইডি জানায়, তারা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপরে নজরদারি চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই লেনদেন বন্ধ রাখার বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে বলেও আদালতে জানায় ইডি।

edff

উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতির সমস্ত তদন্ত ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সুপ্রিম কোর্টও ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিল। তবে এদিন ইডি তরফে আদালতে জানানো হয়, নতুন করে বহু তথ্য তাদের হাতে এসেছে। তাই স্বল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করা সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে আদালতের কাছে আরও কিছুটা সময় চেয়ে নেন ইডির আইনজীবী। যদিও এই বিষয়ে বুধবারেই ইডির জয়েন্ট ডিরেক্টরকে আদালতে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি সিনহা।

সম্পর্কিত খবর