মিড-ডে মিল নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত, স্কুলগুলির জন্য ৯৯৭ কোটি বরাদ্দের হিসাব দিলেন মন্ত্রী

Published on:

Published on:

Education Minister give strict order to school for mid day meal
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : স্কুলে দুপুরের খাবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঘিরে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে স্কুল শিক্ষা দফতর। পড়ুয়াদের জন্য নির্ধারিত মিড-ডে মিল (Mid Day Meal) কোনও অবস্থাতেই বন্ধ রাখা যাবে না—স্কুলগুলিকে কার্যত সেই বার্তাই দিলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ (Education Minister)। একইসঙ্গে রান্নার খরচ এবং রাঁধুনিদের পারিশ্রমিক বাবদ অর্থ বরাদ্দের হিসাবও প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি।

মিড ডে মিল (Mid Day Meal) বরাদ্দ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রী

বরাদ্দ টাকার হিসাব দেখিয়ে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ বলেন, “আমাদের পিএম পোষণ যে প্রকল্পটি আছে, সেই প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গ সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আমার হাতে যা তথ্য রয়েছে, তাতে নভেম্বর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের রাঁধুনিদের যে অর্থের প্রয়োজন, তা দেওয়ার জন্য সেই অর্থ আমরা বরাদ্দ করেছি। সেটা হল ৪২৪ কোটি টাকা। রান্নার যে খরচ রয়েছে তা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করে দেওয়া হয়েছে। তা হল ৫৭৩ কোটি টাকা। সর্বসাকুল্যে ৯৯৭ কোটি টাকা আমাদের দফতর থেকে দেওয়া হয়েছে। তাতে অক্টোবর পর্যন্ত সমস্যা হওয়ার কথা নয়।”

শুধু বরাদ্দের হিসাব দিয়েই থামেননি। রাঁধুনিদের যে পারিশ্রমিক বকেয়া রয়েছে, সেটিও দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। পুজোর আগেই বকেয়া টাকা মেটানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। ফলে উৎসবের আগে মিড-ডে মিল পরিষেবা নিয়ে তৈরি হওয়া আর্থিক সমস্যাগুলি সামাল দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রশাসনিক স্তরে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে গড়িয়ার বোড়াল স্বামীজি বিদ্যাপীঠে টানা তিন দিন পড়ুয়াদের মিড-ডে মিল দেওয়া সম্ভব হয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় টাকা না আসায় ধার করে রান্নার সামগ্রী কিনে কোনওরকমে পরিষেবা চালানো হচ্ছিল। সেই ধার বেড়ে যাওয়ার পর আর রান্না চালানো সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দ্রুত স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেলা প্রশাসন। স্কুলকে জানানো হয়, দু-তিন দিনের মধ্যেই ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা পাঠানো হবে। সেই আশ্বাস পাওয়ার পর ফের রান্না শুরু করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে দমদমের একটি স্কুলেও মিড-ডে মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর সামনে এসেছিল। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সেখানেও পরিষেবা চালু করার ব্যবস্থা করা হয়।

Education Minister give strict order to school for mid day meal

আরও পড়ুন : অক্টোবর মাস পড়ে গেল, কবে থেকে শুরু হচ্ছে ‘যুবশক্তির’ আবেদন জানুন

উল্লেখ্য, কোথাও রান্নার খরচের বরাদ্দ নিয়ে জটিলতা, আবার কোথাও রাঁধুনিদের পারিশ্রমিক বকেয়া থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে কোনও আর্থিক বা প্রশাসনিক সমস্যার কারণে যাতে পড়ুয়াদের খাবার বন্ধ না হয়ে যায়, সেই বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে আপাতত বড় প্রশ্ন হল, বরাদ্দের টাকা নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলগুলিতে পৌঁছচ্ছে কি না। তাই শুধু ঘোষণা নয়, স্কুলগুলিতে নিয়মিত অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করাই এখন শিক্ষা দফতরের সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।