বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তৃণমূল জামানায় রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে গত কয়েক বছরে। কয়লা পাচার থেকে শুরু করে গরু পাচার, শিক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতি, এই সব কাণ্ড নিয়ে বারবার শিরোনামে এসেছে বাংলা। সেই তালিকায় এবার জোরালো ভাবে যুক্ত হল বালি পাচার। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সরকারি নিয়মকে কার্যত উপেক্ষা করে রাজ্যে রমরমিয়ে চলেছে বালি লুট। এই বালি পাচার মামলাতেই বড় পদক্ষেপ করল ইডি (Enforcement Directorate)।
বালি পাচার মামলায় ১৪ সংস্থার বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিল ইডি (Enforcement Directorate)
বালি পাচার মামলায় চার্জশিট জমা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)। জিডি মাইনিংয়ের কর্ণধার অরুণ শরাফ-সহ একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের ৬০ দিনের মধ্যেই এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। শনিবার ব্যাংকশালে ইডির বিশেষ আদালতে মোট ১৪টি সংস্থার বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়। ইডির দাবি, এই বালি পাচার মামলায় প্রায় ১৪৫ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। জিডি মাইনিং-সহ মোট ১৪টি সংস্থার মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ টাকা বিভিন্ন খাতে সরানো হয়েছে বলে অভিযোগ তদন্তকারী সংস্থার।
গত ৬ নভেম্বর ইডির (Enforcement Directorate)হাতে গ্রেপ্তার হন জিডি মাইনিংয়ের কর্ণধার অরুণ শরাফ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, বালি খনন ও বিক্রির ক্ষেত্রে যত ধরনের জালিয়াতি সম্ভব, তার প্রায় সবটাই করা হয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল স্যান্ড (মাইনিং, ট্রান্সপোর্ট, স্টোরেজ ও সেল) বা WBMDTCL-এর সমস্ত নিয়ম কার্যত অমান্য করেই বালি খনন ও বিক্রি করে বিপুল মুনাফা লুট করা হয়েছে বলে দাবি ইডির।
তদন্তকারী সংস্থার (Enforcement Directorate) অভিযোগ, অরুণ শরাফ অন্তত ৭৯ কোটি টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর সংস্থার ব্যাংক হিসেবেও বড় গরমিল ধরা পড়েছে। ইডির দাবি অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সংস্থার ব্যাংকে মোট ১৩০ কোটি টাকা জমা পড়ে, অথচ বালি বিক্রি থেকে জমা দেখানো হয়েছে মাত্র ১০৩ কোটি টাকা। এই হিসেব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তদন্তকারীরা।
চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বালি তোলার ক্ষেত্রে যে লরিগুলিকে অনুমতি দেওয়া হত, সেগুলির নির্দিষ্ট নম্বর প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হতো। কিন্তু অভিযোগ, একই নম্বর ব্যবহার করে একাধিক লরিতে বালি পরিবহণ করা হত। ফলে কাগজে সব ঠিক থাকলেও বাস্তবে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে চলত এই পাচার।

আরও পড়ুনঃ অবসরের পর মাসে ৫০ হাজার টাকা পেনশন! NPS নিয়মে কীভাবে সম্ভব? জানুন
এছাড়াও বালি তোলার অনুমতিপত্রে থাকা কিউআর কোডও জাল করা হত বলে অভিযোগ। সেই জাল কিউআর কোড ব্যবহার করেই চলত বালি তোলা ও পাচারের কাজ।
এই সমস্ত অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। বালি পাচার মামলায় এই চার্জশিটকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।












