‘২০১৪-র পর থেকে…’, অভিষেক মামলায় হাইকোর্টে মুখবন্ধ খাম! ED-র রিপোর্ট দেখে কী বললেন বিচারপতি?

বাংলা হান্ট ডেস্ক : নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় অভিষেকের (Abhishek Banerjee) সংস্থা লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস নিয়ে রিপোর্ট পেশ করেছিল ইডি। মঙ্গলবার সেই রিপোর্ট নিয়ে ইডিকে (Enforcement Directorates) তুলোধোনা বিচারপতির। নাম না করে বিচারপতি সিনহার প্রশ্ন, তার আয়ের উৎস কী? মুখবন্ধ খামে অল্প কথায় জবাব দিতে বলা হয় ইডিকে‌। আর এবার বৃহস্পতিবার সেই মুখবন্ধ খাম পৌঁছে গেল হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। সূত্রের খবর, বিচারপতি অমৃতা সিং এই রিপোর্ট গ্রহণ করলেও তিনি তা দেখার পরেই নিজের বক্তব্য রাখবেন।

   

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার অভিষেক, রুজিরা এবং ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার ডিরেক্টরের নথি জমা পড়েছে শোনার পরই অমৃতা সিং জানতে চান অভিষেকের এই বিপুল আয়ের উৎস কী? ২০১৪ সালের পর থেকে অভিষেকের সম্পত্তি ফুলেফেঁপে ওঠার কারণও জানতে চেয়েছেন তিনি। ইডির জবাব ছিল, লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস কোম্পানির সিইও ৫,৫০০ পাতার নথি জমা দিয়েছেন। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখাও হয়েছে।

ইডির আইনজীবী জানায়, ‘যে নথি এসেছে তা থেকে নিশ্চিত করে বলতে পারি, কোনও কিছুই গোপন না করে তদন্তের আরও অগ্রগতি হবে।’ এরপরেই বিচারপতির প্রশ্ন, ‘যে পরিমাণ নথি জমা পড়েছে, তা ইঙ্গিত দিচ্ছে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির। ওই নথি অনুযায়ী যে সম্পত্তি কেনা বা লেনদেন হয়েছে, তা কি খুঁজে দেখেছেন আপনারা? আদালত যা জানতে চাইছে, তা কি খুঁজে দেখেছেন? আয়ের উৎস খুঁজে দেখেছেন? আইন আপনাদের ক্ষমতা দিয়েছে। এটাই তো আপনাদের তদন্তের মুখ্য বিষয় হওয়া উচিত।’

আরও পড়ুন : অবস্থান স্পষ্ট না করলে…! চাকরি বাতিল নিয়ে এবার SSC-কে চরম হুঁশিয়ারি হাইকোর্টের

সেইসাথে অভিষেকের সংস্থা সংক্রান্ত একাধিক তথ্য আহরণের পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল ইডিকে‌। লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস সংস্থার ছ’জন ডিরেক্টরের সম্পত্তি, সংস্থাটির লেনদেন, সংস্থাটির ক্লায়েন্ট, তাদের নাম, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টের মত বিষয় এবং সেই সাথে রুজিরা অভিষেক এবং তার মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি সংক্রান্ত বেশকিছু তথ্য জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই সাথে এটাও জানতে চাওয়া হয়েছিল, তদন্তের জন্য ইডি কার দ্বারস্থ হয় সেটাও যেন জানানো হয়।

আরও পড়ুন : TMC-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তাপস পালের স্ত্রী! একযোগে ঠুকলেন মমতা, ফিরহাদ, ববিদের! শোরগোল রাজ্যে

এছাড়াও এইদিন আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘অভিষেকের বেশির ভাগ সম্পত্তি ২০১৪ সালের পর থেকে বৃদ্ধি হয়েছে। আবার এই সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া হয়েছে।’ অমৃতা সিনহার প্রশ্ন ছিল, ‘এই দুটোর মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখেছেন?’ সেইসাথে ইডিকে এটাও বলা হয়, শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অংশটিই যেন জমা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার পৌঁছে গেছে সেই রিপোর্ট। ২০ তারিখ এই মামলার পরবর্তী শুনানি।