খিদেয় কাঁদছিল, টাকা ছিল না কিছু কিনে দেওয়ার! দুই বছরের মেয়েকে হত্যা করে বলল ইঞ্জিনিয়ার বাবা

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কথায় বলে বাবা-সন্তানের সম্পর্ক পৃথিবীর অন্যতম সুন্দর ও পবিত্র সম্পর্ক গুলির মধ্যে একটি। সকল সন্তানের যেকোনো বিপদে ঢাল হয়ে দাঁড়ায় তার পিতা। অন্যদিকে নির্মম ভাবে নিজের ২ বছরের (Two Years) শিশু সন্তানকে হত্যা করার অভিযোগ উঠলো বেঙ্গালুরুর (Bengaluru) এক যুবকের বিরুদ্ধে।

বাবার চোখের সামনে খিদের চোটে কাঁদছিল দু’বছরের একরত্তি কন্যাসন্তান (daughter)। কিন্তু বাবার পকেটে তখন সন্তানকে খাওয়ানোর মতো পর্যাপ্ত টাকা নেই। শেষমেষ মেয়েকে খাওয়াতে না পেরে খুন (Murder) করে বসলো বাবা। নির্মম এই ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru)। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ওই যুবককে।

জানা গিয়েছে সম্প্রতি নিজের কাজ খুইয়েছেন অভিযুক্ত যুবক। নাম রাহুল পারমার (৪৫), পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। পুলিশ সূত্রে খবর পুলিশি জেরায় রাহুল জানিয়েছে, ‘আমি ঋণের দায়ে জর্জরিত। এই বিপুল পরিমাণ টাকা শোধ করার জন্য স্ত্রীর গয়নাও বন্ধক রেখে দিয়েছিলাম। আর স্ত্রীকে বলেছিলাম যে, সেগুলো চুরি হয়ে গেছে। কিন্তু তাতেও সব সমস্যা মেটেনি। তাই মেয়ের আর আমার দু’জনেরই জীবন শেষ করার কথা ভেবেছিলাম।’

তিনি আরও জানান নিজেদের শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েই কন্যা সন্তানকে বাড়ি থেকে নিয়ে বেরিয়েছিল সে। এরপর বহু সময় ধরে শহরের নানাপ্রান্তে ঘুরতে ঘুরতে খিদের জ্বালায় কাঁদতে শুরু করে ২ বছরের একরত্তি। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমান অর্থ না থাকায় রাস্তার ধারের একটি দোকান থেকে মেয়েকে বিস্কুট কিনে দেয় ওই যুবক। তাতেও বাচ্চার কান্না না থামতে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয় সেই যুবক।

এরপর শহরেই একটি হ্রদের মধ্যে মেয়েকে নিয়ে ঝাঁপ দেয়। সেখানেই কোল থেকে বাচ্চাটি ছিটকে পড়ে জলে ডুবে যায়। ঘটনার পর কি করবে সেকথা বুঝতে না পেরে তড়িঘড়ি সেখান থেকে পালিয়ে যায় রাহুল। এদিকে ঘটনার পরদিন ওই লেকেই ভেসে ওঠে বাচ্চাটির দেহ। এরপরই শুরু হয় পুলিশি তদন্ত। সন্দেহবশে বাচ্চাটির বাবাকে বসিয়ে জেরা করলে সেই নিজের অপরাধ শিকার করে নেয়। সাথেই সে জানায় মেয়েকে খুনের সেও যে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সফল হয়নি।

Sharmi Dhar

শর্মি ধর, বাংলা হান্ট এর রাজনৈতিক কনটেন্ট রাইটার। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। বিগত ৩ বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ।

সম্পর্কিত খবর

X