‘গুন্ডা দমনে’ আরও কড়াকড়ি! নয়া আইন আনছে রাজ্য, শাস্তি সহ সব জানুন

Published on:

Published on:

Government of West Bengal to introduce a bill to curb anti-social activities
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যে ক্ষমতায় আসতেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে বিজেপি সরকার (Government of West Bengal)। এবার যেমন ‘গুন্ডা দমনে’ কড়া আইন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘুষ নিয়ে কিংবা গুন্ডামি করে বেআইনি সম্পত্তিকে আইনি বানানোর মতো অপরাধকে সামনে রেখে এই বিল তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ন্যায় সংহিতা অনুসারে আইনের সব ধারা প্রয়োগ করা যাবে। বিলে ‘গুন্ডা’ শব্দটিও যোগ করা হয়েছে।

‘গুন্ডা দমনে’ কড়াকড়ি রাজ্যের | (Government of West Bengal)

জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার এই বিল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টিসোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিলের উদ্দেশ্য হল সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, জননিরাপত্তা বজায় রাখা। একইসঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করা ও প্রতিরোধ করা। এছাড়া সরকারের তরফে যাদের ‘অসামাজিক’ কিংবা ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাঁদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ, প্রতিরোধমূলক আটক, তল্লাশি এবং বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা ইত্যাদিও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ রবিবার টানা ১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে বিদ্যাসাগর সেতু! বিকল্প কোন রুটে গাড়ি চলাচল? জানুন

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, ‘গুন্ডা’ কারা কিংবা ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ কী? নিজে কিংবা কোনও চক্র, দল, সিন্ডিকেটের সদস্য অথবা নেতা হিসেবে নিয়মিতভাবে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকে, মদত দেয়, করানোর চেষ্টা করে, অর্থ জোগায় অথবা সুবিধা করে দেয়। একইসঙ্গে যারা বিএনএসের ১১১ অথবা ১১২ ধারার অপরাধে চার্জশিটভুক্ত বা অস্ত্র বা বিস্ফোরক আইনের অধীন অপরাধে জড়িত তাঁরা হলেন ‘গুন্ডা’।

‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ বলতে বোঝায়, জনগণের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক, নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা; জনশৃঙ্খলা বা জনশান্তির বিঘ্ন ঘটানো; জীবন ব্যক্তি অথবা সম্পত্তির বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা; কারও স্থাবর অথবা অস্থাবর সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল করা; কারও বৈধ ব্যবসা অথবা কাজে বাধা সৃষ্টি করা; সরকারি কিংবা বেসরকারি সম্পত্তির বড়সড় ক্ষতি; পাথরখাদান, খনি, বালি তোলা, বন্যপ্রাণ, বনজ দ্রব্য সংক্রান্ত অবৈধ কাজ করে সরকারি টাকার ক্ষতি ঘটানো।

Government of West Bengal to introduce a bill to curb anti-social activities

জানা গিয়েছে, এই নতুন আইনের অধীন সর্বাধিক ১২ মাস পর্যন্ত আটকে রাখা যেতে পারে। পুরনো আটকের পর ফের নতুন করে আটক করা যেতে পারে। যে কোনও সময় সরকার আটক বাতিল অথবা সংশোধন করতে পারে। আটকের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফের নতুন করে আটকের নির্দেশ দেওয়া যেতে পারে। মুক্তির পর ওই ব্যক্তি যদি আবার অসামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত হয়, তাহলে তাঁকে নতুন করে আটক করা যাবে।

এছাড়া এই আইনে অভিযুক্তের চলাফেরার উপর নজরদারি, এলাকা ছাড়ার নির্দেশ, আদেশ ভাঙলে শাস্তি, তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তর ক্ষমতা সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ আছে। সেই সঙ্গেই সাময়িক মুক্তি, আপিলের সুযোগের মতো অংশও রয়েছে।