UCO ব্যাঙ্কে ৮২০ কোটি ‘গরমিল’, ১৩৫০০ কোটির অনলাইন জালিয়াতি! কী হবে গ্রাহকদের? বৈঠক ডাকল কেন্দ্র

বাংলা হান্ট ডেস্ক : দিনকয়েক আগেই অনলাইন লেনদেন (Digital Payment) নিয়ে দেশের ব্যাঙ্কগুলিকে সতর্ক করেছিল সরকার। আর এবার এই বিষয়টা নিয়ে ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া, ট্রাই এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (Reserve Bank Of India) এক যৌথ বৈঠকের আয়োজন করল‌। কিছুদিন আগেই ইউকো ব্যাঙ্ক (UCO Bank) ৮২০ কোটি টাকার ধাক্কা খেয়েছে। আর তাও আবার অনলাইন লেনদেনের ত্রুটির কারণে।

   

ezgif sixteen nine 599

১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার জালিয়াতি 

রিপোর্ট বলছে, গত ১১ মাসে সাইবার স্ক্যামারদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত বছর যেখানে অনলাইন জালিয়াতির পরিসংখ্যান ছিল প্রায় ৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা। সেখানে এবছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকায়। মাত্র এক বছরে প্রায় ৫০ শতাংশ জালিয়াতি বেড়েছে। যা সরকারের জন্য এক বড় মাথা ব্যাথার কারন।

UCO Bank-র ৮২০ কোটি টাকার গরমিল

যদিও সাম্প্রতিক এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়বস্তু হবে ইউকোর ঘটনা। কিছুদিন আগেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ইউকোর অনেক গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে ভুল করে টাকা ঢুকেছিল। এই গরমিল হয়েছিল মূলত ইমিডিয়েট পেমেন্ট সিস্টেম বা আইএমপিএস-এ (IMPS Glitch) গলদ থাকার কারণে‌ই। যার মাশুল হিসেবে মোট ৮২০ কোটি টাকার গরমিলের হিসেব কষতে ব্যস্ত রয়েছে ব্যাঙ্ক। সূত্রের খবর, অধিকাংশ টাকা ব্যাঙ্ক ফেরাতে সক্ষম হলেও সমস্ত হিসেব এখনও মেলেনি। তাছাড়া এখনও প্রায় ১৭১ কোটি টাকা ফেরাতে অক্ষম হয়েছে ইউকো।

আরও পড়ুন : ভাসানে জোরে গান চালানো নিয়ে বচসা, যুবককে কাঁচি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা! বিক্ষোভে উত্তপ্ত চিংড়িঘাটা

যদিও ঘটনার পর পরই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হয় ইউকো। কলকাতা ভিত্তিক হওয়ায় কলকাতা পুলিশেই এফআইআর করা হয়েছে। ঘটনা প্রসঙ্গে ইউকো জানিয়েছে, টেকনিক্যাল গলযোগের কারণে প্রায় ৮২০ কোটি টাকা গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ভুল ভাবে চলে যায়। যারমধ্যে প্রায় ৬৪৯ কোটি টাকা ফেরাতে সক্ষম হয়েছে সংস্থাটি। তবে এখনও প্রায় ১৭১ কোটি টাকা ভুল অ্যাকাউন্টে পড়ে রয়েছে।

বন্ধ করা হয়েছে IMPS

অন্যদিকে এফআইআর পাওয়া মাত্রই ইমিডিয়েট পেমেন্ট সিস্টেম বা আইএমপিএস স্থগিত করেছে কলকাতা ভিত্তিক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ইউকো। সংস্থাটি জানিয়েছে, অন্যান্য ব্যাঙ্কের গ্রাহকরা কোনও ইউকো গ্রাহকের অ্যাকউন্টে টাকা পাঠালে তা বাতিল বলে দেখাচ্ছে। অথচ গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাচ্ছে এবং প্রেরকের অ্যাকউন্ট থেকে টাকা কাটছেনা এবং কাটলেও তা আবার ফিরে আসছে। তারপরেই বন্ধ করে দেওয়া হয় আইএমপিএস ট্রান্সফার ব্যবস্থা। এরপর ব্যাঙ্কের তরফে বলা হয়, ‘এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সকলের সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা করছে ব্যাঙ্ক। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এবং তারপরই ফের নতুন করে চালু করা হবে আইএমপিএস ট্রান্সফার।’