বাংলা হান্ট ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে ইউনূস সরকারের আমলে বাংলাদেশের (Bangladesh) সংখ্যালঘু হিন্দুরা ক্রমাগত আক্রমণের সম্মুখীন হচ্ছেন। এমনকি, তাঁদের প্রাণহানির ঘটনাও সামনে আসছে। তবে, এবার ইউনূস সরকার রীতিমতো হিন্দুদের অধিকার হরণ শুরু করেছে। মূলত, বাংলাদেশ সরকার ২০২৬ সালের ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকা অনুসারে, বাংলাদেশের হিন্দুরা সরস্বতী পুজো থেকে শুরু করে, বুদ্ধ পূর্ণিমা, জন্মাষ্টমী বা মহালয়ার জন্য কোনও ছুটি পাবেন না। পাশাপাশি, মে দিবসেও কোনও ছুটি থাকবে না।
বাংলাদেশে (Bangladesh) ছুটির তালিকা উঠে এল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে:
এদিকে, ভাষা সরকারি ছুটির তালিকায় শহিদ দিবসেরও কোনও ছুটি নেই। যেটি বাংলাদেশে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, দেশের সমস্ত স্কুল ওই দিনগুলিতে খোলা থাকবে। এর ফলে কেউ কেউ একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলেছেন। তবে, রমজান এবং ঈদ-উল-ফিতরের সময় ছুটি থাকলেও আগের তুলনায় দিনের সংখ্যা কমানো হয়েছে।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা: কেউ কেউ অভিযোগ করছেন যে এবার ইউনূস সরকার বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে ভাষা আন্দোলন মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। এমনিতেই, গত দেড় বছরে, ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এমন অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা বাংলাদেশের ইতিহাসকে প্রভাবিত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের অনেক দিক মুছে ফেলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুও বাংলাদেশ থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছেন। এবার, ‘লক্ষ্য’ হল ভাষা দিবস।
আরও পড়ুন: ভয়ঙ্কর বিপদে প্রথমেই মিলেছে সাহায্য! ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে সম্মান জানাল এই দেশ
তবে, ইউনূস সরকারের ঘনিষ্ঠরা দাবি করেছেন যে, এই বছর ২১ ফেব্রুয়ারি পড়েছে শনিবার। বাংলাদেশে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকে। তাই, সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ভাষা দিবসের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়নি। যদিও ২০২৫ সালে, ২১ ফেব্রুয়ারি ছিল শুক্রবার। যেটি বাংলাদেশে সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির দিন হলেও সরকারি ছুটির বিজ্ঞপ্তিতে দিনটিকে ভাষা দিবসের ছুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: ২০২৫-এর ডিসেম্বরে উপচে পড়ল দেশের কোষাগার! GST আদায়ের পরিমাণে বিরাট বৃদ্ধি
ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্ত প্রশ্নের উদ্রেক করছে: TV9-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকারকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘তাঁরা বোকা এবং নিরক্ষর। ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে। এই ভাষার ইতিহাস বিশ্বের অনেক ভাষার সাথেই জড়িয়ে আছে। তাঁরা উন্মাদ হয়ে গেছেন।’ জানিয়ে রাখি যে,, ১৯৫২ সালের ২১ফেব্রুয়ারি, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, বর্তমানে স্বাধীন বাংলাদেশে পড়ুয়ারা বাংলা ভাষাকে জাতীয় ভাষা করার দাবিতে একটি আন্দোলন শুরু করেন। ওই আন্দোলন দমন করার লক্ষ্যে পাকিস্তানি পুলিশ গুলি চালায়। যার ফলে বরকত, সালাম, রফিক এবং জব্বার নিহত হন। অনেকে, এই ভাষা আন্দোলনকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অনুঘটক হিসেবেও বিবেচিত করেন।












