বাংলা হান্ট ডেস্কঃ চাকরি জীবন শেষ হওয়ার পরে নিয়মিত আয়ের প্রয়োজন হয় সবারই। কিন্তু অবসরের পর সেই আয় কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করলে অবসরের পরে মাসে মাসে পেনশন পাওয়া সম্ভব। ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম বা NPS এমনই একটি স্কিম, যেখানে দীর্ঘদিন বিনিয়োগ করলে অবসরের পরে এককালীন বড় অঙ্কের টাকা ও নিয়মিত মাসিক পেনশনের সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু কীভাবে পাবেন? জানুন (NPS Rules)
NPS-এ বিনিয়োগের সুবিধা (NPS Rules)
চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর জীবন যাতে আর্থিক দিক থেকে সুরক্ষিত থাকে, তার জন্য আগেভাগে পরিকল্পনা করা জরুরি। অবসরের পরে অনেকেরই নিয়মিত আয়ের প্রয়োজন হয়। সঠিক বিনিয়োগ করলে সেই আয় মাসিক পেনশনের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব। ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম বা এনপিএস এমনই একটি সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্প, যেখানে নিয়মিত বিনিয়োগ করলে অবসরের পরে এককালীন বড় অঙ্কের টাকা পাওয়ার পাশাপাশি মাসিক পেনশনের সুবিধাও মেলে। এই স্কিমে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ফলে কোটি টাকার ফান্ড গড়ে তোলা সম্ভব (NPS Rules)।
এনপিএসের নিয়ম (NPS Rules) অনুযায়ী, অবসর নেওয়ার পরে মোট জমা টাকার একটি বড় অংশ এককালীন তোলা যায় এবং বাকি অংশ দিয়ে অ্যানিউনিটি কিনে মাসিক পেনশন পাওয়া যায়। সাধারণভাবে অবসরের পরে ৮০ শতাংশ টাকা এককালীন তোলা যায় এবং বাকি ২০ শতাংশ টাকা অ্যানিউনিটির জন্য রাখতে হয়।
মাসিক ৫০ হাজার টাকা পেনশন পেতে কী করতে হবে?
মাসে ৫০ হাজার টাকা পেনশন পেতে হলে বছরে পেনশন দরকার হয় ৬ লক্ষ টাকা। যদি অ্যানিউনিটির সুদের হার ৬ শতাংশ ধরা হয়, তাহলে বছরে ৬ লক্ষ টাকা পেনশন পেতে মোট অ্যানিউনিটির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাসে ৫০ হাজার টাকা পেনশন পেতে হলে অবসরের সময় অন্তত ১ কোটি টাকার অ্যানিউনিটি কিনতে হবে।
এই হিসেব অনুযায়ী, যদি এনপিএসে মোট ৫ কোটি টাকার ফান্ড তৈরি করা যায়, তাহলে তার ২০ শতাংশ অর্থাৎ ১ কোটি টাকা অ্যানিউনিটির জন্য ব্যবহার করা সম্ভব। বাকি ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৪ কোটি টাকা এককালীন তোলা যাবে।
এনপিএসে নিয়মিত বিনিয়োগ করলে এই ফান্ড তৈরি করা সম্ভব। হিসেব অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রায় ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে এবং গড়ে বছরে ১০ শতাংশ হারে রিটার্ন পেলে, ৬০ বছর বয়সে মোট ফান্ড ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে (NPS Rules)। ৬০ বছর বয়সে সেই ফান্ড থেকে ৮০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি টাকা এককালীন পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ২০ শতাংশ অর্থাৎ ১ কোটি টাকা অ্যানিউনিটিতে বিনিয়োগ করলে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া সম্ভব।

এই সুবিধা মূলত সেই সব বিনিয়োগকারীদের জন্য, যাদের বয়স বর্তমানে প্রায় ৩০ বছর এবং যাঁরা নিয়মিতভাবে এনপিএসে বিনিয়োগ শুরু করতে পারেন। তবে যদি কারও বয়স ৩৫ বছর হয়, সেক্ষেত্রে একই পেনশন পেতে প্রতি মাসে প্রায় ২৪ থেকে ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে হতে পারে। আবার ৩৫ বছর বয়সে শুরু করলে মাসিক বিনিয়োগের অঙ্ক ৩৫ থেকে ৩৮ হাজার টাকার কাছাকাছি হলে অবসরের পরে ৫০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া সম্ভব (NPS Rules)।












