বাংলা হান্ট ডেস্ক: বিদেশ সফর শেষে দেশে ফিরেই আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বিকেল চারটে নাগাদ দিল্লির সেবা তীর্থে অনুষ্ঠিত হবে এই বৈঠক। কেন্দ্রীয় সরকারের সব মন্ত্রীকে রাজধানীতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে এই বৈঠককে ঘিরে জল্পনা বেড়েছে। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আজ আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi) সঙ্গে বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হবে?
এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার সমস্ত ক্যাবিনেট মন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তাই এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক এই অস্থিরতার প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতেও পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য সমস্যা এবং বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার সতর্ক করেছে। আজকের বৈঠকে এই বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একটি মন্ত্রীগোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন এই কমিটির দায়িত্ব হল ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধ পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং তার প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পরামর্শ দেওয়া। এই মন্ত্রীগোষ্ঠীতে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী।
সম্প্রতি রাজনাথ সিং বলেন, “সরকার ২৪ ঘণ্টাই পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। বর্তমানে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি বা এলপিজি পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কোনও বিশেষ সমস্যা নেই।” আজকের বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও কৌতূহল তুঙ্গে। কারণ আগামী মাসেই মোদী সরকারের এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে। সেই আবহে মন্ত্রীসভা সম্প্রসারণ ও দফতর বদল নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

আরও পড়ুন : তাপপ্রবাহের পরিস্থিতিতে সতর্ক প্রশাসন, স্কুল খোলা নিয়ে জারি নতুন নির্দেশিকা
সূত্রের খবর, আগামী ১০ জুন সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রকের কাজের মূল্যায়ন করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। প্রশাসনিক দক্ষতা ও সাংগঠনিক ভূমিকার উপর ভিত্তি করে কিছু মন্ত্রীর দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হতে পারে বলেও জল্পনা চলছে। আজকের মন্ত্রীসভার বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুই ক্ষেত্রেই বাড়ছে আগ্রহ। কেন্দ্র সরকারের আগামী কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলতে পারে এই বৈঠক থেকেই।













