টাইমলাইনরাজনীতিআন্তর্জাতিক

দুবাইয়ের ব্যাঙ্ক থেকে পেমেন্ট, নতুন হেলিকপ্টার নিয়ে প্রশ্নের মুখে ইমরান খান

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মাস খানেক পূর্বেই প্রধানমন্ত্রীর গদি ছাড়তে বাধ্য হন ইমরান খান। এরপর বেশ কিছুটা সময় কেটে গেলেও বর্তমানে বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে চলছেন তিনি। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর পদ চলে গেলেও দমে থাকতে নারাজ ইমরান। প্রতিনিয়ত দেশবাসীর কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সমাবেশ করার পাশাপাশি মানুষের উদ্দেশ্যে একাধিক মন্তব্য রেখে চলেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, যেখানে বর্তমান পাকিস্তান সরকারকে আক্রমণ করে ‘বিদেশী শক্তির হাতের পুতুল’ আখ্যা দিয়েছেন তো কখনো আবার শাহবাজ শরীফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। তবে এর মাঝেই এবার তাঁর নতুন হেলিকপ্টার নিয়ে এক বিতর্কের সৃষ্টি হল। ব্যক্তিগত জেট কিংবা হেলিকপ্টার নিয়ে বিভিন্ন সমাবেশে পৌঁছতে দেখা যায় ইমরান খানকে। গতকালও মুলতানে নতুন ব্র্যান্ডের একটি হেলিকপ্টার নিয়ে সমাবেশে পৌঁছান তিনি আর সেই হেলিকপ্টার নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক।

গতকাল ইমরান খানকে প্রশ্ন করা হয়, “নতুন হেলিকপ্টার তাঁর কাছে কি করে এলো? কে সেই খরচ  দিয়েছে?” যদিও এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে দেখা যায়নি তাঁকে। তবে পরবর্তীতে পাকিস্তানের এক সাংবাদিক আসাদ আলি তূর বলেন, “বর্তমানে সমগ্র দেশবাসী জানতে চায় ইমরানের এই নতুন হেলিকপ্টার প্রসঙ্গে। আমরা বহু তদন্তের পর কিছু প্রমাণ এবং তথ্য হাতে পেয়েছি, যার দ্বারা জানা গিয়েছে যে, এই হেলিকপ্টারটি প্রাক্তন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিয়েছেন ফারাহ গোগী ওরফে ফারাহ শাহজাদী।” কিন্তু কে এই ফারাহ শাহজাদী, কি তার পরিচয়?

পাকিস্তান সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, পাকিস্তানের শাসনভার যখন ইমরান খানের হাতে ছিল, সেই সময় এই ফারাহ শাহজাদী বেশ চর্চায় ছিলেন। প্রকৃতপক্ষে ইমরান খানের তৃতীয় পক্ষের স্ত্রী বুশরা বিবির ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি। ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ফারাহ’র বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক তছরুপের অভিযোগও ওঠে এবং ইমরান সরকারের পতনের দিন তিনি প্রাইভেট জেটে করে দুবাই চলে যান বলে খবর।

এছাড়াও আসাদ আলি বলেন, “ইমরান খানের এই নতুন হেলিকপ্টারটি আমেরিকা থেকে কেনা হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ মেটানো হয়েছে দুবাইয়ের একটি ব্যাঙ্ক থেকে। বর্তমানে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর ইমরান খান রটিয়ে চলেছেন যে, আমেরিকা এবং অন্যান্য একাধিক দেশে তাঁর সমর্থকরা অনুদান জোগাড় করে এই হেলিকপ্টারটি তাঁকে উপহার দিয়েছেন। কিন্তু এটি সত্য নয়।” ফলে যে মুহূর্তে ইমরান খান নিজের ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখার জন্য একাধিক সমাবেশ করে চলেছেন, সেই সময় হেলিকপ্টার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তাঁকে চাপে ফেলবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

Related Articles

Back to top button