বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের (India-Bangladesh) হাইকমিশনার প্রণয় বর্মার সঙ্গে বৈঠক করলেন বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলশানে বিএনপির দলীয় দফতরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রণয় বর্মা। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র। তবে এই সাক্ষাতে ঠিক কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কিছু জানানো হয়নি।
নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভারত বাংলাদেশ (India-Bangladesh)
বৈঠকের পর ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক, বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশন কিংবা বিএনপির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে শুধু জানানো হয়েছে, এটি একটি ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’। ফলে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিশেষ করে বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে এই বৈঠককে ঘিরে একটি অংশের মধ্যে কৌতূহল ও হইচই তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন! পূর্ব মেদিনীপুরের এই জায়গায় সামরিক ঘাঁটি তৈরি করছে ভারত
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই বৈঠকের মধ্যে কোনও বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্য খুঁজতে নারাজ। তাঁদের যুক্তি, এর আগের দিনই বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন তারেক রহমান। সেই সাক্ষাৎকেও সৌজন্য সাক্ষাৎ বলেই ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। ফলে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, এটিই স্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষায় বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতিতে বিএনপিকে এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে ভোটের আগেই বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের ‘চ্যানেল’ খোলা রাখার চেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলে দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক বাস্তবতা মাথায় রেখেই বিভিন্ন দেশ আগাম যোগাযোগ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: ‘কাঙাল’ পাকিস্তান পেল মোক্ষম ঝটকা! আর্থিক সঙ্কটের আবহেই বিপুল ক্ষতি পড়শি দেশে
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর আগেও ভারতের তরফে বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের নজির রয়েছে। খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পরে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর বাংলাদেশে এসে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই সময় তাঁর হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিশেষ বার্তাও তুলে দেওয়া হয়। ওই বার্তায় মোদী খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক মজবুত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে এগিয়ে যাবে এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও গভীর ও সমৃদ্ধ হবে। শনিবারের বৈঠককে সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।












