Durga Puja 2026 Live Updates

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবার ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’, ৩০ অক্টোবর নজিরবিহীন কর্মসূচি ইন্ডিয়া জোটের

Published on:

Published on:

INDIA bloc calls for a 'public impeachment' campaign against Gyanesh Kumar.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) ঘিরে এবার নজিরবিহীন রাজনৈতিক কর্মসূচির ডাক দিল বিরোধী জোট ইন্ডিয়া (INDIA)। আগামী ৩০ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ আয়োজন করতে চলেছে বিরোধীরা। ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজেদের আন্দোলন আরও জোরদার করতে চাইছে তারা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানোর দাবিতে জনমত তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধী শিবিরের। তবে এই ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’ কোনও সাংবিধানিক অপসারণ প্রক্রিয়া নয়, বরং বিরোধীদের ঘোষিত একটি প্রতীকী রাজনৈতিক কর্মসূচি।

জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে এবার ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচির ডাক ইন্ডিয়া জোটের:

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল জানিয়েছেন, আগামী ৩০ অক্টোবরের কর্মসূচিতে ইন্ডিয়া জোটের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা এবং বিরোধী সাংসদরা অংশ নেবেন। নয়াদিল্লিতে একটি প্রতীকী সংসদের আয়োজন করা হবে। সেখানেই জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ এবং তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবির পক্ষে জনমত তুলে ধরা হবে। বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের অভিযোগ বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতে চাইছে ইন্ডিয়া জোট।

আরও পড়ুন: সবার আগে নিরাপত্তা! RTI-তে জানা যাবে না মোদীর বিদেশ সফরের বিমান সংক্রান্ত নথি, কী জানাল দিল্লি হাই কোর্ট?

শুধু ৩০ অক্টোবরের কর্মসূচিতেই থেমে থাকতে চাইছে না কংগ্রেস। পরের দিন, অর্থাৎ ১ নভেম্বরও একটি বড় কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে দলের। কংগ্রেসের দাবি, ওই কর্মসূচিতে অন্তত ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হতে পারে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নির্বাচনী তালিকা সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন আনার বিষয়টিও তাদের আপত্তির অন্যতম কারণ। বিরোধী দলগুলির মতে, এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে সাধারণ নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের অসন্তোষ অবশ্য নতুন নয়। রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অখিলেশ যাদবের মতো বিরোধী নেতারা বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। এবার তাঁদের আন্দোলনের পরিধি আরও বাড়িয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার আইন, ২০২৩-এর ১৬ নম্বর ধারাকেও চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী শিবির। ওই ধারায় দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া সিদ্ধান্তের জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধরনের আইনি পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, যা অবসরের পরেও প্রযোজ্য। বিরোধীদের দাবি, এই সুরক্ষাকবচের পরিধি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, যাতে নির্বাচন কমিশনের কাজের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।

INDIA bloc calls for a 'public impeachment' campaign against Gyanesh Kumar.

আরও পড়ুন: টোল প্লাজাগুলির পার্কিং ও শৌচাগারের মান আরও উন্নত! নতুন নির্দেশিকা জারি করল NHAI

অন্যদিকে, বিরোধীদের এই উদ্যোগকে মোটেই ভালো চোখে দেখছে না বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, ‘জনতার ইমপিচমেন্ট’-এর মতো কর্মসূচি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী ফলাফল ও বাস্তবতা মেনে নিতে না পেরে রাহুল গান্ধী এবং ইন্ডিয়া জোট বিভ্রান্তিকর তথ্য ও মিথ্যা প্রচারের আশ্রয় নিচ্ছে। ফলে নির্বাচন কমিশনকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। একদিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন, অন্যদিকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে বিজেপির পাল্টা অভিযোগ—সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিনে এই বিতর্ক জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে (Gyanesh Kumar)।