বাংলাহান্ট ডেস্ক: হরমুজ প্রণালী ঘিরে টানাপোড়েনের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মাঝে এলপিজি (Liquefied Petroleum Gas) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলা শর্ত-পাল্টা শর্তের কূটনৈতিক টানাপোড়েন পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে, বহু দেশে জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে।
জ্বালানি সঙ্কট ঠেকাতে এলপিজি (Liquefied Petroleum Gas) উৎপাদন বাড়াল ভারত:
এই পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে এসে পৌঁছেছে একাধিক গ্যাস ও তেলবাহী জাহাজ। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারত আগেভাগেই সতর্ক পদক্ষেপ নিয়েছে। নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশে লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সমস্যা না হয়।
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে, যা আগে ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, দেশে অপরিশোধিত তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং শোধনাগারগুলিও পূর্ণ গতিতে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সরবরাহে জটিলতা তৈরি হওয়ার পরই এই বাড়তি উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ভারতের প্রয়োজনীয় এলপিজির একটি বড় অংশ আমদানির উপর নির্ভরশীল, যার সিংহভাগই হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ওই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় কেন্দ্র দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ফলে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে জ্বালানি সরবরাহে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

আরও পড়ুন: যে ক্ষেপণাস্ত্রের পরিকল্পনা করেছিলেন এপিজে আবদুল কালাম! এবার সেই ধ্রুবাস্ত্র পাচ্ছে ভারতীয় সেনা
এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বারবার গ্যাসের দাম ও জোগান স্থিতিশীল রাখার উপর জোর দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের উপর তার সম্পূর্ণ প্রভাব পড়তে না দেওয়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহন করছে সরকার। পাশাপাশি রাজ্যগুলিকে কম্প্রেসড বায়ো গ্যাস নীতি দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি (Liquefied Petroleum Gas) নিরাপত্তা আরও মজবুত করা যায়।












