বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল অনিল চৌহান দাবি করেছেন, ভারতের (India) ‘অপারেশন সিঁদুর’ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বড় ঘাটতি প্রকাশ করে দিয়েছিল, যার ফলে দেশটিকে তার সংবিধান সংশোধন করে সামরিক কমান্ড কাঠামো বদলাতে বাধ্য হয়েছে। মহারাষ্ট্রের পুনেতে এক বক্তৃতায় তিনি এই মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য অনুসারে, ২০১৯ সালের ভারতের অভিযান পাকিস্তানের প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের গুরুতর দুর্বলতা সামনে আনতে সক্ষম হয়েছিল।
কেন অপারেশন সিঁদুরের পর সংবিধান বদলাতে বাধ্য হয় পাকিস্তান জানালো ভারত (India)
জেনারেল চৌহান বলেন, “পাকিস্তানে সংবিধান সংশোধন এবং দ্রুত যে পরিবর্তনগুলি আনা হয়েছে, সেগুলি স্পষ্ট করে যে অপারেশন সিঁদুরের সময় তাদের প্রস্তুতিতে বড় রকমের ঘাটতি ছিল।” তিনি উল্লেখ করেন, অপারেশন সিঁদুরের আগে পাকিস্তানে সেনা সর্বাধিনায়ক বা তিন বাহিনীর সমন্বিত কমান্ডের কোনো পদই ছিল না। ভারতের এই অভিযানের পর পাকিস্তান সংবিধানের ২৪৩ নম্বর ধারা সংশোধন করে ‘চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস’ নামে একটি নতুন সর্বোচ্চ সামরিক পদ তৈরি করে।
আরও পড়ুন:‘কাঙাল’ পাকিস্তান পেল মোক্ষম ঝটকা! আর্থিক সঙ্কটের আবহেই বিপুল ক্ষতি পড়শি দেশে
এই পদে বর্তমানে রয়েছেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। অপারেশন সিঁদুরের সময় তিনি ছিলেন শুধুমাত্র পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান (চিফ অফ আর্মি স্টাফ)। ভারতীয় সেনাপ্রধানের মতে, কৌশলগতভাবে পিছিয়ে পড়ার স্বীকারোক্তি দিয়েই পাকিস্তান তড়িঘড়ি এই পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেয়। একটি বিশেষ বিল পাস করে পাকিস্তানের সংসদ এই পরিবর্তন অনুমোদন করে, যার মাধ্যমে স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীর ওপর সমন্বিত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই পদ সৃষ্টির মাধ্যমে পাকিস্তান ভারতের মতো একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে এবং নিজেদের দৃশ্যমান দুর্বলতা আড়াল করার চেষ্টা করেছে। পুনের সম্মেলনে জেনারেল চৌহান ভারতের নিজস্ব সেনা সর্বাধিনায়ক পদের গুরুত্বও ব্যাখ্যা করেন, যা তিন বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়, যৌথ পরিকল্পনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে চায় বাংলাদেশ! কী প্রতিক্রিয়া ভারতের?
তিনি আরও বলেন, উরি ও বালাকোট হামলার পর ভারতের প্রতিশোধমূলক অভিযান এবং অপারেশন সিঁদুরের অভিজ্ঞতা দেশটিকে কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী করেছে। এই ধারাবাহিক অভিযান থেকে অর্জিত শিক্ষা ভারতকে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করবে বলেও মত প্রকাশ করেন ভারতীয় সেনাপ্রধান।












