বাংলাহান্ট ডেস্ক: পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার ক্ষতর কথা মনে করে ভারত (India) পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে কঠোর কূটনৈতিক বার্তা দিল। বিদেশমন্ত্রী ডক্টর এস. জয়শঙ্কর সরাসরি পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ আখ্যা দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের নাগরিকদের রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে এবং প্রয়োজনবোধে সেই অধিকার প্রয়োগ করা হবে। মাদ্রাজ আইআইটিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক আড্ডায় তিনি এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।
ভারত (India) পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে কঠোর কূটনৈতিক বার্তা দিল:
অনুষ্ঠানে বিদেশমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, কোনো দেশই ভারতের উপর শর্ত চাপাতে পারে না। ভারত কী করবে বা করবে না, তা অন্য কেউ নির্ধারণ করতে পারবে না। পহেলগাঁও হামলা এবং তার জবাবে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “খারাপ প্রতিবেশী থাকতেই পারে, দুর্ভাগ্যবশত আমাদের ক্ষেত্রে সেটাই বাস্তব। যদি কোনো দেশ আমাদের পশ্চিম সীমান্তে ইচ্ছাকৃতভাবে, ধারাবাহিকভাবে এবং বিনা উসকানিতে সন্ত্রাসবাদ চালায়, তাহলে আমাদের জনগণকে রক্ষা করার অধিকার আমাদের আছে এবং আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব।”
আরও পড়ুন: ‘পাকিস্তানকে উৎখাত করুন, ভারতের সঙ্গে আছি’, জয়শঙ্করকে খোলা চিঠি দিয়ে জানালেন বালোচ নেতা
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে এই অধিকার কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা সম্পূর্ণরূপে ভারতের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। দেশের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য, “নিজেদের মানুষকে বাঁচাতে আমরা যা প্রয়োজন, তাই করব।” পর্যবেক্ষক মহল এই মন্তব্যকে পাকিস্তানের প্রতি একটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর কূটনৈতিক সতর্কবার্তা হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন।
পহেলগাঁও হামলার পর স্থগিত করা সিন্ধু জলচুক্তি নিয়েও কথা বলেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, বহু বছর আগে দুই দেশের মধ্যে জল বণ্টনের চুক্তি হলেও, যখন দীর্ঘ দশকের পর দশক ধরে কোনো দেশ সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়, তখন সেই সম্পর্ককে ‘ভাল প্রতিবেশীসুলভ’ বলা চলে না। তাঁর মতে, “এক দিকে আপনি সন্ত্রাসবাদ চালাবেন, আর অন্য দিকে জল চাইবেন—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভাল প্রতিবেশী না হলে সেই সুবিধাও পাওয়া যায় না।”

আরও পড়ুন:সোনার দাম বাড়তেই ঋণেও সোনালি ঝলক! ১২৫ শতাংশ বৃদ্ধি গোল্ড লোনে
বিদেশমন্ত্রী জানান, ভারত সবসময়ই প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে মানবিক ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। যদি কোনো প্রতিবেশী ক্ষতিসাধন না করে অথবা শান্তিপূর্ণ থাকে, ভারত স্বাভাবিকভাবেই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু যে দেশ সন্ত্রাসবাদকে হাতিয়ার করে ভারতের ক্ষতি করতে থাকে, তার সঙ্গে একই রকম আচরণ আশা করা যায় না। তাঁর এই স্পষ্টবক্তব্যে ভারতের বর্তমান বৈদেশিক নীতির দৃঢ় অবস্থানই ফুটে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।












