বাংলা হান্ট ডেস্ক: যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামরিক দিক থেকে ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ভারত (India)। শুধু তাই নয়, সেনাবাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক বড় পদক্ষেপও। এই আবহেই এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ভারত ও জার্মানির মধ্যে সর্বকালের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি শীঘ্রই চূড়ান্ত হতে পারে। আগামী সপ্তাহে ১২-১৩ জানুয়ারি জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের ভারত সফরের সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৬ টি অত্যাধুনিক সাবমেরিনের যৌথ নির্মাণ চুক্তি চূড়ান্ত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই চুক্তির মূল্য প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বলে জানা গেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে জার্মান কোম্পানি থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (TKMS) এবং ভারতের মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড
(MDL) যৌথভাবে সাবমেরিন তৈরি করবে।
জার্মানির সঙ্গে হতে চলেছে ভারতের (India) বড় চুক্তি:
ভারতে তৈরি হবে সাবমেরিন: এই চুক্তি অনুসারে, এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন (AIP) প্রযুক্তি সম্বলিত টাইপ-২১৪ ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন তৈরি করা হবে। এই প্রযুক্তির ফলে সাবমেরিনগুলি কয়েকদিন ধরে জলের নিচে থাকতে পারবে। যার গোপনীয়তা বজায় থাকার পাশাপাশি মারণ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। এই সাবমেরিনগুলি MDL দ্বারা ভারতে নির্মিত হবে। এছাড়াও, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি মেক ইন ইন্ডিয়া এবং আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের সাফল্যকেও প্রমাণ করবে।

নৌবাহিনীর প্রয়োজন সাবমেরিন: জানিয়ে রাখি যে, বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীর কাছে মাত্র ১৬ টি সাবমেরিন রয়েছে। যার মধ্যে ১০ টি ২৫ বছরেরও বেশি পুরনো। অন্যদিকে, চিনের কাছে ৭০টিরও বেশি আধুনিক সাবমেরিন রয়েছে। এমতাবস্থায়, সামগ্রিকভাবে এই চুক্তি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ঘনঘন ভারত সীমান্তের কাছে পরিদর্শন আসিম মুনিরের! ফের নতুন কোনও ষড়যন্ত্র করছে পাকিস্তান?
রয়েছে পুরনো অংশীদারিত্ব: ভারত ও জার্মানির মধ্যে সাবমেরিন সংক্রান্ত সহযোগিতা নতুন নয়। বরং, ভারত ১৯৮০ এবং ১৯৯০-এর দশকে জার্মানি থেকে সাবমেরিন কিনেছিল। এই নতুন চুক্তি সেই অংশীদারিত্বকে আরও আধুনিক প্রযুক্তি এবং বৃহত্তর আত্মনির্ভরতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এছাড়াও, এই চুক্তি ভারত-জার্মানি প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে উন্নত করবে এবং রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারতের কৌশলকে শক্তিশালী করবে। তাই, এখন এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির দিকেই প্রত্যেকের নজর রয়েছে।
আরও পড়ুন: T20 বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে না বাংলাদেশ? BCB-কে ডেডলাইন দিল ICC
কর্মসংস্থান ও শিল্প বৃদ্ধি: এই প্রকল্প মুম্বাইয়ের মাজাগাঁও ডকে পরিকাঠামো সম্প্রসারিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। শুধু তাই নয়, ইস্পাত থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সম্পর্কিত একাধিক দেশীয় শিল্পও এর মাধ্যমে লাভবান হবে।












