বাংলা হান্ট ডেস্ক: যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান সময়ে এমন ঘটনা ঘটছে যেগুলি কয়েক বছর আগেও রীতিমতো কল্পনাই করা যেত না। মনে করুন, আপনার বাড়িতে থাকা বৈদ্যুতিক বাল্বটি যদি ভারত (India) থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা সৌদি আরব বা দুবাইয়ের মরুভূমিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দ্বারা জ্বলে ওঠে তাহলে আপনার ঠিক কেমন লাগবে? হ্যাঁ, প্রথমে এই প্রশ্নটি পড়ে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এই অসম্ভবই এবার সম্ভব হতে চলেছে।
মূলত, ভারত সরকার এবার ভারত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে সমুদ্রের তলদেশে বিদ্যুতের কেবল স্থাপনের জন্য কাজ করছে। এই প্রকল্পটি কেবল ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকেই শক্তিশালী করবে না বরং বিশ্বের বৃহত্তম আন্তঃসীমান্ত এনার্জি এক্সচেঞ্জ সিস্টেমও হয়ে উঠতে পারে।
সৌদি-UAE-র সঙ্গে মেগা প্ল্যান ভারতের (India):
সমুদ্রের তলদেশে ‘বিদ্যুতের হাইওয়ে’: মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকার শীঘ্রই এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য একটি টেন্ডার জারি করবে। এই পরিকল্পনার অধীনে, আরব সাগরের তলদেশে হাই-ভোল্টেজ ডাইরেক্ট কারেন্ট (HVDC) কেবলের একটি নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে। এই প্রযুক্তি কোনও বড় ক্ষতি ছাড়াই দীর্ঘ দূরত্বে বিদ্যুৎ প্রেরণ করতে সক্ষম। এই প্রকল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এটি একমুখী আমদানি হবে না। বরং, এটি ‘টু-ওয়ে ট্র্যাফিক’-এর মতো কাজ করবে। এর অর্থ হল, ভারত প্রয়োজনের সময়ে এই উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহ করবে এবং যখন আমাদের কাছে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ থাকবে তখন তাদের সরবরাহও করা যাবে। এই গ্রিড ইন্টারকানেকশন সঙ্কটের সময়ে উভয় পক্ষের জন্য একটি বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।

এত দূর থেকে বিদ্যুৎ আনা হবে কেন: এমতাবস্থায়, স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে যে এতদূর থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে আসার আদৌ কোনও সুবিধা রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ের মধ্যে নিহিত রয়েছে। ভারত এবং সৌদি আরবের মধ্যে সময়ের পার্থক্য প্রায় ৩ ঘন্টা। যখন ভারতে সন্ধ্যা হয় এবং সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, তখন সৌদি আরবে সূর্যের আলো প্রকাশিত হয়।
আরও পড়ুন: এবার এই সংস্থা আনতে চলছে IPO! কিংবদন্তি ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকারের সঙ্গে রয়েছে কানেকশন
এই নতুন চুক্তির আওতায়, ভারত সন্ধ্যায় তার বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সৌদি আরব থেকে রিয়েল টাইমে সৌরশক্তি আমদানি করতে সক্ষম হবে। বিপরীতে, যখন ভারতের সৌরশক্তি উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছবে, তখন ভারতের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে পাঠানো যাবে এই সহযোগিতা কেবল বিদ্যুতের দাম কমাতেই পারবে না, বরং গ্রিডকেও স্থিতিশীল রাখবে।
আরও পড়ুন: যেকোনও মুহূর্তে ইরানের ওপর হতে পারে মার্কিন আক্রমণ! কী প্রভাব পড়বে ভারতের অর্থনীতিতে?
সৌর শক্তির অংশীদারিত্ব: উল্লেখ্য যে, বছরের পর বছর ধরে, ভারত তার জ্বালানি চাহিদা, বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের জন্য সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর উপর নির্ভর করে আসছে। কিন্তু, এই সম্পর্ক পরিবর্তন হচ্ছে। এই তেল সমৃদ্ধ দেশগুলি এখন জানে যে ভবিষ্যতে জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় ক্লিন এনার্জির দাপট বাড়বে।
এমতাবস্থায় সৌদি আরব তার ‘ভিশন ২০৩০’-এর অধীনে এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী তার ‘নেট জিরো ২০৫০’ লক্ষ্যের অধীনে একটি দায়িত্বশীল ‘ গ্রিন এনার্জি’ উৎপাদক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এদিকে, সৌর ও বায়ু শক্তি প্রযুক্তিতে দ্রুত অগ্রসরমান ভারত এই প্রচেষ্টায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠবে। ভারত কেবল এই দেশগুলিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে না, বরং তাদের প্রযুক্তি ও ম্যান-পাওয়ার দিয়ে পরিকাঠামো তৈরিতেও সহায়তা করবে।












