Durga Puja 2026 Live Updates

ভারতে আসবে ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ! আজ থেকেই লাগু নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

Published on:

Published on:

India-New Zealand FTA to come into effect from October 20.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: উৎসবের মরসুমে ভারতের বাণিজ্য ইতিহাসে যুক্ত হল একটি নতুন অধ্যায়। মূলত, ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি তথা FTA (India-New Zealand FTA) আজ অর্থাৎ ২০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির ফলে ভারতীয় (India) রফতানিকারীরা নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) বাজারে ১০০ শতাংশ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবেন। যা ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প তথা MSMEs থেকে শুরু করে কৃষক এবং কারিগরসহ মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগের দ্বার উন্মোচন করবে। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর ফলে আগামী ১৫ বছরে ভারতে ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যা কৃষি থেকে শুরু করে উৎপাদন, পরিকাঠামো এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে সুযোগ তৈরি করবে। উভয় দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে পণ্য ও পরিসেবা খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করে ৭ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলারে (প্রায় ৩৫,০০০ কোটি টাকা) বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যার জন্য প্রায় ১৮ শতাংশের চক্রবৃদ্ধি বার্ষিক বৃদ্ধির হার (CAGR) প্রয়োজন হবে।

আজ থেকেই লাগু নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (India-New Zealand FTA):

কোন কোন সেক্টর হবে লাভবান: জানিয়ে রাখি যে, এই বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ওষুধ থেকে শুরু করে বস্ত্র, পোশাক চামড়া এবং জুতোর মতো শ্রম-প্রধান সেক্টরগুলি১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বিলুপ্তির ফলে উপকৃত হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। মেশিনারি, কেমিক্যালস, ফার্মাসিউটিক্যালস ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী এবং কৃষি পণ্যও সুবিধা পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মন্ত্রী টড ম্যাকলে বলেছেন, এই চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলির রফতানিকারীদের জন্য সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হলে ভারতে নিউজিল্যান্ডের বর্তমান রপ্তানির ৯৫ শতাংশ শুল্ক বিলুপ্ত বা উল্লেখযোগ্য শুল্ক হ্রাসের ফলে উপকৃত হবে। যা একাধিক প্রধান রফতানি সেক্টরে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। নিউজিল্যান্ডের যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে কিউইফ্রুট, মধু, আপেল, দুধের অ্যালবুমিন, ওয়াইন, ঔষধপত্র, অ্যালুমিনিয়াম এবং পলিমার।

কী জানিয়েছেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী: ইতিমধ্যে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন যে, ভারতীয় কৃষকরা সবজি থেকে শুরু করে ফল, মশলা এবং অন্যান্য কৃষি পণ্যের জন্য বৃহত্তর বাজারের সুবিধা পাবেন। এর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আয় বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রাকে শক্তিশালী করার জন্য সহায়তাও লাভ করবেন। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি শুল্ক-হার কোটা, ন্যূনতম আমদানি মূল্য এবং দেশীয় কৃষকদের সুরক্ষার জন্য অন্যান্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের আপেল, কিউইফ্রুট এবং মানুকা মধুর জন্য ভারসাম্যপূর্ণ বাজার সুবিধা প্রদান করে। এতে আপেল, কিউইফ্রুট এবং মধুর জন্য উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি গ্রহণ এবং সাপ্লাই চেনের সহযোগিতার ওপর দৃষ্টিনিক্ষেপ করা কৃষি সহযোগিতা উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই চুক্তির অংশ হিসাবে ভারত ও নিউজিল্যান্ড একটি কৃষি উৎপাদনশীলতা অংশীদারিত্ব চালু করবে। এই উদ্যোগটি একাধিক সেক্টরে ভারতের কৃষি ইকোসিস্টেমের উন্নতির জন্য নির্ভুল কৃষি এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে নিউজিল্যান্ডের দক্ষতাকে কাজে লাগাবে।

আরও পড়ুন: যাত্রীরা হন সতর্ক! ট্রেনে উচ্চস্বরে গান বাজালেই হতে পারে জেল, নতুন সার্কুলার রেলের

ভারত এই পণ্যগুলিকে চুক্তি থেকে বাদ দিয়েছে: জানিয়ে রাখি যে, ভারত চিনি, ছোলা, মটর,দুগ্ধজাত পণ্য, পেঁয়াজ, ভুট্টা, বাদাম, এবং বিভিন্ন চর্বি ও তেল, রত্ন ও গহনা, অ্যালুমিনিয়াম, তামা, এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদকে চুক্তি থেকে বাদ দিয়েছে। বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল বলেছেন যে, এই সম্পর্কটি কেবল বাজার সুবিধা এবং রফতানি বৃদ্ধির জন্য নয়, বরং এর মূল লক্ষ্য একটি শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। তিনি আরও বলেছেন, নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত। যেখানে অনেক প্রধান অর্থনীতির সঙ্গেই ভারতের চেয়ে দেশটির বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশি শক্তিশালী।

আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ার সিলেকশন প্যানেলে একাধিক পরিবর্তন! চিফ সিলেক্টর হয়ে কত বেতন পাবেন প্রজ্ঞান ওঝা?

নিশ্চিত ওয়ার্ক ভিসার ফলে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স পাবেন: উল্লেখ্য যে, পড়াশোনার জন্য নিউজিল্যান্ডে গমনকারী তরুণ ভারতীয়দের এখন নিশ্চিত ওয়ার্ক ভিসা দেওয়া হবে। যা তাদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেখানে প্রশিক্ষণ ও কাজ করার সুযোগ দেবে। এই চুক্তি অনুযায়ী কার্গোর জন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং এক্সপ্রেস ও পচনশীল পণ্যের শিপমেন্টের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যাবে। এদিকে, যোগ্য স্ট্যাটাস হোল্ডারদের জন্য ডিজিটাল সার্টিফিকেশন এবং রুলস অফ অরিজিনের সেলফ-সার্টিফিকেশনের লক্ষ্য হলো প্রসেসিংয়ের বিলম্ব এবং কম্প্লায়েন্স কস্ট হ্রাস করা।