বাংলাহান্ট ডেস্ক: চেনাব নদীর উপর নির্মীয়মাণ কোয়ার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভারত (India)–পাকিস্তান সম্পর্কে নতুন টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পর্কে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে, গত ৫ জানুয়ারি ভারতের বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর জম্মু–কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এই পরিদর্শনকে ভারতের দৃঢ় অবস্থানেরই ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। খট্টর স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতের জলসম্পদের ওপর ভারতেরই প্রথম অধিকার রয়েছে এবং সিন্ধু জলচুক্তির অজুহাতে দেশের অভ্যন্তরীণ এই উন্নয়নমূলক প্রকল্প আটকে দেওয়া যাবে না। ঝুলসতি স্টেজ–২-এর কাজ দ্রুত এগোচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
সিন্ধু চুক্তি স্থগিতের পর পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা ভারতের (India):
কোয়ার প্রকল্প নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগ গত এপ্রিলে তীব্র হয়েছে, যখন পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত ছয় দশকের পুরনো সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ওই হামলায় ২৬ নাগরিক নিহত হওয়ার পর মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। চুক্তি স্থগিত হওয়ায় ভারত এখন পাকিস্তানের কাছে সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর প্রবাহ সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া বন্ধ রেখেছে, যা আগে নিয়মিতভাবে বণ্টন হতো। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জলসম্পদ সচিবের তথ্য চেয়ে পাঠানো একাধিক চিঠিও এখন পর্যন্ত কোনও সাড়া পায়নি।
আরও পড়ুন: হাওড়া বাদ, টাটার স্মৃতি ঘেঁটে সিঙ্গুরে মোদির সভা, ভোটের আগে বড় ‘গেম’ বিজেপির!
পাকিস্তানের তরফে এই ইস্যুতে ক্রমাগত হুমকি ও হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করেছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ভারতের বাঁধ লক্ষ্য করে মিসাইল হামলার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন বলে দাবি উঠেছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জোরালো ভাষায় সিন্ধু নদীর জল বণ্টন নিয়ে যুদ্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ভারতের অবস্থান সুনির্দিষ্ট, সন্ত্রাসবাদের ছায়ায় কোনও ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্ভব নয়। পাকিস্তান অতীতে এই বিবাদ নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশ আদালতে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ভারত সেই আদালতের এখতিয়ার মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান সিন্ধু অববাহিকার ৮০ শতাংশ জল পেয়ে আসছে, ভারত পায় মাত্র ২০ শতাংশ। পাকিস্তানের কৃষি ও অর্থনীতি এই জল প্রবাহের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। দুই দেশের মধ্যে চারটি যুদ্ধের পরও এই চুক্তি কখনও স্থগিত হয়নি, এবারই প্রথম। পহেলগাঁও হামলার আগেই ভারত প্রাকৃতিক পরিবর্তনের কথা বলে চুক্তি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দিলে পাকিস্তান তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এখন চুক্তি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তান আলোচনায় বসতে চাইলেও ভারতের শর্ত স্পষ্ট—সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করতে হবে।

আরও পড়ুন: যাত্রীদের জন্য বিরাট সুখবর! এবার এক টিকিটেই ঘোরা যাবে দিল্লি সহ একাধিক শহর, রেলের নতুন আপডেট জানেন?
সামগ্রিকভাবে, কোয়ার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্রুত অগ্রগতি এবং মন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে দিল্লি পাকিস্তানকে তার অনড় অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছে। জল সম্পদকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের এই সংকট দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অন্যদিকে, ভারত জোর দিয়ে বলছে, এটি তার সার্বভৌম অধিকারের মধ্যেই পড়ে এবং দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে কোনও আপস করা হবে না।












