বাংলাহান্ট ডেস্ক: গত বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) পরপর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ২,৯৮০ জন। তবে এখনও উদ্ধারকাজ জারি রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজার হাজার মানুষ আটকে রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যরা। জানা গিয়েছে, ভূমিকম্পের পর অন্তত ২০ বার আফটারশক অনুভূত হওয়ায় উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গোটা দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ সামগ্রী বিলির কাজ জোরদার করেছে ভেনেজ়ুয়েলা সরকার।
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) মেডিক্যাল সাহায্য পাঠাল ভারত:
এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বরাবরের মতো মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্রের তরফে জানানো হয় যে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘৬০ প্যারা ফিল্ড হাসপাতাল’ ইউনিট থেকে ৮১ সদস্যের একটি বিশেষ মেডিক্যাল দল ভেনেজ়ুয়েলার (Venezuela) উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এই দলে রয়েছেন ৯ জন অভিজ্ঞ মেডিক্যাল অফিসার, যাঁরা জরুরি চিকিৎসা, ট্রমা কেয়ার এবং জটিল অস্ত্রোপচারে দক্ষ। শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের হিন্দন এয়ার ফোর্স স্টেশন থেকে ভারতীয় বায়ুসেনার দুটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহণ বিমানে করে এই দলকে পাঠানো হয়েছে। শুধু চিকিৎসক দলই নয়, তাঁদের সঙ্গে পাঠানো হয়েছে অত্যাধুনিক ‘ভীষ্ম কিউব’, যা ‘আরোগ্য মৈত্রী’ প্রকল্পের আওতায় তৈরি একটি চলমান হাসপাতাল। এই বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থায় একসঙ্গে প্রায় ২০০ জন রোগীর চিকিৎসা করা সম্ভব। যাতে রয়েছে পোর্টেবল ভেন্টিলেটর, রোগী পর্যবেক্ষণের আধুনিক যন্ত্র, ডায়াগনস্টিক সরঞ্জাম, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় উপকরণ, নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা এবং অক্সিজেন সাপোর্ট সিস্টেম।
ভূমিকম্পের সূত্রপাত হয় বুধবার সন্ধ্যায়। মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী কম্পনে কেঁপে ওঠে ভেনেজ়ুয়েলা। প্রথম কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে এবং রিখটার স্কেলে তার মাত্রা ছিল ৭.২। মানুষ সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই দ্বিতীয়বার আরও শক্তিশালী কম্পন আঘাত হানে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৫ এবং তার প্রভাব রাজধানী কারাকাস-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উপকূলবর্তী লা গুয়াইরা অঞ্চলে। সেখানকার বহু বহুতল ভবন ও বসতবাড়ি ভেঙে পড়েছে। রাস্তা, সেতু এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থারও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আফটারশকের কারণে উদ্ধারকাজ বারবার ব্যাহত হচ্ছে, ফলে উদ্ধারকারী কর্মীদেরও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো ক্যাবেলো জানিয়েছেন, শুধু লা গুয়াইরা অঞ্চলেই ১০০-র বেশি বাড়ি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। প্রায় ৭০ হাজার পরিবার এই বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ আরও দ্রুত করতে অতিরিক্ত সেনা, চিকিৎসক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হচ্ছে। দুর্গতদের জন্য অস্থায়ী ত্রাণশিবিরও তৈরি করা হয়েছে, যেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ জল এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ৩,০০০ টাকায় করতেন সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি! আজ সামলাচ্ছেন কোটি টাকার ব্যবসা, চমকে দেবে অজয়ের কাহিনি
এদিকে, আন্তর্জাতিক মহলও এই বিপর্যয়ে ভেনেজুয়েলার (Venezuela) পাশে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ ইতিমধ্যেই বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থাও ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে। ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা এবং উন্নত সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া বহু মানুষের প্রাণ বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ জীবিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল। গোটা বিশ্বের নজর এখন ভেনেজ়ুয়েলার দিকে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তই নতুন করে জীবন বাঁচানোর লড়াই।













