বাংলাদেশে বেড়েই চলেছে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার! ইউনূস সরকারকে কড়া বার্তা দিল ভারত

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর লাগাতার হিংসার ঘটনায় কড়া বার্তা দিল ভারত (India)। গত এক মাসে একের পর এক হিন্দু হত্যাকাণ্ড এবং মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে নয়াদিল্লি। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান মৌলবাদী তৎপরতা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে বিপন্ন করছে বলে মনে করছে ভারত, এবং এই পরিস্থিতি আর উপেক্ষা করা যাবে না—এমনই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সংখ্যালঘু অত্যাচারের ঘটনায় বাংলাদেশকে কড়া বার্তা ভারতের (India)

শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বিদেশমন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে মুখ খোলেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়ওসয়াল। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর উগ্রপন্থীদের হামলার একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ধারা আমরা বারবার লক্ষ্য করছি। সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, উপাসনালয় এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এই ধরনের সাম্প্রদায়িক হিংসা রুখতে দ্রুত এবং দৃঢ় পদক্ষেপ জরুরি।” তাঁর সংযোজন, এই ঘটনাগুলিকে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা রাজনৈতিক বিবাদ বলে খাটো করে দেখানোর প্রবণতা অপরাধীদের আরও সাহস জোগাচ্ছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন: শব্দভেদী অস্ত্রের ক্ষেত্রে নয়া নজির! DRDO যা করে দেখাল… জানলে চমকে উঠবেন

ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, গত এক মাসে বাংলাদেশে অন্তত পাঁচজন হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে এবং একাধিক জায়গায় মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ১৮ ডিসেম্বর দীপু দাস নামে এক হিন্দু যুবককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। অভিযোগ, গণপিটুনি দেওয়ার পর তাঁকে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় শুরুতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়ার পরেই গ্রেপ্তার করা হয় ১২ জনকে।

এরপর ২৪ ডিসেম্বর অমৃত মণ্ডল নামে এক হিন্দু যুবককে হত্যা করা হয়। একই মাসের ৩১ তারিখে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় খোকন চন্দ্র দাস নামে ৫০ বছরের এক ব্যক্তির উপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরপর এই ঘটনাগুলি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছে নয়াদিল্লি।

India sent a strong message to Bangladesh regarding minority persecution.

আরও পড়ুন: বিপদের আশঙ্কা? ১২ ঘণ্টায় ৯ বার কম্পন ভারতের এই শহরে! কী জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত চাইছে বাংলাদেশ সরকার যেন এই ঘটনাগুলির দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব—এই বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে ভারত। ইউনুস প্রশাসন কীভাবে এই হিংসা দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।