ট্রাম্পের শুল্কবোমার আবহে মোক্ষম পদক্ষেপ ভারতের! আমেরিকার উদ্দেশ্যে স্থগিত বিশেষ পরিষেবা

Published on:

Published on:

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইতিমধ্যেই ভারতের (India) ওপর শুল্কের পাহাড় চাপিয়েছে আমেরিকা। এই আবহেই একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারত (India)। এই প্রসঙ্গে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, এবার ভারতীয় ডাক বিভাগ আমেরিকাগামী সমস্ত ডাক পরিষেবা স্থগিত করেছে। এর অর্থ হল, এখন আমেরিকায় যেকোনও চিঠি, ১০০ ডলার পর্যন্ত মূল্যের নথি, পার্সেল বা উপহার পাঠানো যাবে না। সরকারের জারি করা নোটিশে বলা হয়েছে যে, মার্কিন প্রশাসনের আরোপিত নতুন নিয়ম এবং ভারতীয় ডাক বাহকদের সামর্থ্য না থাকার কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আমেরিকাগামী সমস্ত ডাক পরিষেবা স্থগিত করল ভারত (India):

ব্যাপারটা কী: মূলত, গত ৩০ জুলাই আমেরিকা কর্তৃক জারি করা ১৪৩২৪ নম্বর নির্দেশের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই আদেশ অনুসারে, এখন আমেরিকায় ৮০০ ডলার পর্যন্ত পণ্যের ওপর কোনও কর ছাড় থাকবে না। অর্থাৎ, ২৯ অগাস্ট থেকে আমেরিকায় পৌঁছনো প্রতিটি পার্সেলের ওপর একটি নতুন কর নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এই কারণে, সতর্কতা হিসেবে ভারতীয় ডাক বিভাগ সমস্ত মার্কিন ডাক পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, আমেরিকায় পাঠানো ডাকের বুকিং এবং প্রেরণ ততক্ষণ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে, যতক্ষণ না কাস্টম ট্যাক্স এবং ডেটা এক্সচেঞ্জ সম্পর্কিত সমস্ত ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়।

এদিকে, ৩০ জুলাই, ২০২৫ তারিখে আমেরিকা আরেকটি নির্দেশ জারি করে। যেখানে বলা হয় যে, ১০০ ডলারের বেশি মূল্যের পণ্যের ওপর কাস্টম কর প্রদান করতে হবে। এই নিয়মের অধীনে, যেসব কোম্পানি বা সংস্থা কাস্টম কর আদায় করবে তাদের মার্কিন কাস্টমস বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে। এদিকে, ১৫ অগাস্ট কিছু নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়। যেমন কোন কোম্পানিগুলি এই কর ধার্য করবে এবং কর আদায়ের পদ্ধতি কী হবে এই বিষয়গুলি।

India suspends special services to America.

এই কারণে, ২৫ অগাস্টের পর থেকে আমেরিকাগামী বিমান এবং কুরিয়ার কোম্পানিগুলি ভারতীয় ডাক পণ্য গ্রহণ বন্ধ করে দেয়। সেই সময় বলা হয়েছিল যে, ১০০ ডলার পর্যন্ত মূল্যের উপহার সামগ্রী এবং চিঠি বা নথি আগের মতোই পাঠানো হবে। কিন্তু এখন সেগুলিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সীমান্ত, সম্পর্ক, সন্ত্রাসবাদ… মোদী-জিনপিং বৈঠকে কোন কোন বিষয় পেয়েছে গুরুত্ব? জানালেন বিদেশ সচিব

এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে: উল্লেখ্য যে, এই সিদ্ধান্তটি মূলত সেইসব ভারতীয়দের (India) জন্য উদ্বেগের বিষয় যাঁরা আমেরিকায় বসবাসকারী তাঁদের পরিবার এবং বন্ধুদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নথি, উপহার বা পার্সেল পাঠাতেন। এখন তাঁরা ঐতিহ্যবাহী ডাক পরিষেবার ওপর নির্ভর করতে পারবেন না এবং বিকল্প কুরিয়ার কোম্পানিগুলির দিকে ঝুঁকতে হবে। ডাক বিভাগ আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, যাঁরা ইতিমধ্যে আমেরিকায় ডাক বুক করেছেন কিন্তু, এখন তা পাঠানো যাচ্ছে না, তাঁর ডাক খরচ ফেরত দাবি করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: চেতেশ্বর পূজারা অবসর নিতেই চিঠি পাঠালেন মোদী! দিলেন বিশেষ পরামর্শ

কবে থেকে পরিষেবা পুনরায় চালু হবে: ইতিমধ্যেই সরকার জানিয়েছে যে, সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর সর্বক্ষণ নজর রাখা হচ্ছে এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক পরিষেবা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। তবে, মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) ডেটা এক্সচেঞ্জ এবং শুল্ক সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, ভারত (India) ও আমেরিকার মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক উত্তেজনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে শুল্ক ও ডেটা এক্সচেঞ্জের বিষয়ে একটি চুক্তি ছাড়া, ডাক পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার আশা খুব কমই দেখা যাচ্ছে।