বিদেশিদের তুলনায় যথেষ্ট কম দামে বাজার কাঁপাচ্ছে ভারতের অস্ত্র! দেশে আরও যুদ্ধবিমান তৈরির কারখানা

Published on:

Published on:

India to build more manufacturing factories for fighter jets.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের (India) প্রতিরক্ষা (Indian Defence System) উৎপাদন আরও শক্তিশালী করতে এবার যুদ্ধবিমান (Fighter Jets) তৈরির পরিকাঠামো বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। ভারতে যাতে কোনও একটি মাত্র প্রোডাকশন লাইনের উপর যুদ্ধবিমান তৈরির জন্য নির্ভর করতে না হয়, তার জন্য দ্বিতীয় একটি উৎপাদন লাইন তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং। পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ফোরাম অফ ইন্ডিয়া (PAFI)-র একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, দেশে আরও একটি ফাইটার জেট উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে একটি লাইনে কোনও সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়তে পারে গোটা প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে।

বিদেশিদের তুলনায় যথেষ্ট কম দামে বাজার কাঁপাচ্ছে ভারতের (India) অস্ত্র:

বর্তমানে ভারতে (India) যুদ্ধবিমান তৈরির প্রধান দায়িত্ব রয়েছে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (HAL) হাতে। নাসিক এবং বেঙ্গালুরুতে সংস্থার উৎপাদন পরিকাঠামো রয়েছে। নাসিকের কারখানায় যুদ্ধবিমান তৈরির পাশাপাশি ইতিমধ্যে ব্যবহৃত বিমানগুলির আধুনিকীকরণের কাজও হয়। তবে ভবিষ্যতের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে এবার বেসরকারি ক্ষেত্র-সহ আরও সংস্থাকে এই উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের নিজস্ব স্টেলথ যুদ্ধবিমান AMCA বা অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফটকে কেন্দ্র করে নতুন উৎপাদন পরিকাঠামো তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। AMCA তৈরির জন্য একাধিক সংস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে তিনটি প্রস্তাব বাছাই করে সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব।

শুধু দেশীয় উৎপাদন নয়, প্রতিরক্ষা সামগ্রীর রফতানিকেও আগামী দিনে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যেতে চাইছে কেন্দ্র। রাজেশ কুমার সিং জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি বেড়ে ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এবার সেই অঙ্ককে ৫০ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বর্তমান বৃদ্ধির হার বজায় থাকলে ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হতে পারে বলেও আশাপ্রকাশ করেছেন তিনি। ফলে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের জন্য নতুন বাজার খোঁজার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরাতে সাহায্য করবে আমেরিকা? কী জানাল ওয়াশিংটন?

এই রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের অন্যতম পরিচিত পণ্য হয়ে উঠেছে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। প্রতিরক্ষা সচিবের কথায়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের সঙ্গে ব্রহ্মস নিয়ে ইতিমধ্যেই চুক্তি হয়েছে বা আলোচনা এগিয়েছে। একইসঙ্গে আকাশ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম নিয়েও বিভিন্ন দেশের আগ্রহ রয়েছে। কামান, মাউন্টেড গান সিস্টেম-সহ অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও বিদেশে ভারতের বাজার বাড়ছে। অর্থাৎ শুধু যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র নয়, প্রতিরক্ষা শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই রফতানির পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

India to build more manufacturing factories for fighter jets.

আরও পড়ুন: নির্বাচন কমিশনে সত্যিই কোন্দল? একফ্রেমে ৩ কমিশনারের ছবি প্রকাশ করে জল্পনায় জল ঢালল ECI

ভারতের (India) প্রতিরক্ষা রফতানির অন্যতম বড় সুবিধা হিসেবে উৎপাদন খরচের বিষয়টিকেও তুলে ধরেছেন প্রতিরক্ষা সচিব। তাঁর দাবি, বিদেশি সংস্থার তুলনায় অনেক কম খরচে ভারত বেশ কিছু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য কম দামে ভারতীয় পণ্য পাওয়া যায় বলে তিনি জানিয়েছেন। ফলে আরও বেশি দেশকে ভারতীয় প্রতিরক্ষা পণ্যের বাজারে নিয়ে আসতে পারলে রফতানির পরিমাণও দ্রুত বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যুদ্ধবিমান উৎপাদনে দ্বিতীয় লাইন তৈরির পরিকল্পনা থেকে শুরু করে AMCA-কে ঘিরে দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণ এবং ব্রহ্মস-আকাশের মতো অস্ত্রের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ—সব মিলিয়ে প্রতিরক্ষা শিল্পকে একইসঙ্গে উৎপাদন ও রফতানির শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে ভারত।