বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) ২০২৬ সালের প্রথম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ অভিযানেই প্রযুক্তিগত বিপত্তির সম্মুখীন হয়েছে। সোমবার, ১২ জানুয়ারি সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে পিএসএলভি-সি৬২ রকেট উৎক্ষেপণের প্রাথমিক ধাপগুলো সফল হলেও, শেষ পর্যায়ে ত্রুটির কারণে মূল উপগ্রহটিকে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করা যায়নি। উৎক্ষেপণের পরপরই ইসরো এই ব্যর্থতার কারণ তদন্ত শুরু করেছে।
ব্যর্থতা দিয়ে নতুন বছর শুরু ইসরোর (ISRO)-র
ইসরোর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রকেটের তৃতীয় ধাপের (PS3) কার্যক্রমের চূড়ান্ত পর্যায়ে একটি কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। এই ত্রুটির জেরে রকেটের নির্দিষ্ট গতিপথ বিচ্যুত হয়, ফলে পরিকল্পিত কক্ষপথে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, মিশনের সমস্ত টেলিমেট্রি ও ফ্লাইট ডেটা বিশ্লেষণ করে ত্রুটির সঠিক কারণ খুঁজে বের করার কাজ চলছে। এ মিশনে মোট ১৫টি উপগ্রহ বহন করা হচ্ছিল।
আরও পড়ুন: মিষ্টির স্বাদে ভেজাল! শীতের বাজারে ক্ষতিকারক নকল গুড়ের দাপট! আসল গুড় চিনবেন কীভাবে?
এই মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপগ্রহ ছিল আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট ইওএস-এন১, যার নাম ‘অন্বেষা’। এটি ছিল একটি অত্যাধুনিক হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজিং স্যাটেলাইট, যা ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) তৈরি করেছিল। এটি ৬০০ কিলোমিটার উচ্চতার সূর্য-সynchronous কক্ষপথে স্থাপনের কথা ছিল এবং এর মাধ্যমে সীমান্ত, দুর্গম এলাকা ও ঘন অরণ্যে সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ওপর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি সম্ভব হতো। সামরিক মহলে একে ‘ভারতের কক্ষপথস্থ সিসিটিভি’ হিসেবেও অভিহিত করা হচ্ছিল।
The PSLV-C62 mission encountered an anomaly during end of the PS3 stage. A detailed analysis has been initiated.
— ISRO (@isro) January 12, 2026
বিবৃতিতে ইসরো প্রধান এস. সোমনাথ জানান, “উড়ানের তৃতীয় ধাপে একটি সমস্যা দেখা দেয় এবং রকেটের গতিপথ বিচ্যুত হয়। আমরা সমস্ত ডেটা খতিয়ে দেখছি এবং শীঘ্রই বিস্তারিত তথ্য জানাব।” তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মিশনের ব্যর্থতা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে না বলে ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: মেয়ের স্মৃতিতে বিনামূল্যের হাসপাতাল, শোককে শক্তি করে নতুন লড়াইয়ে নামলেন অভয়ার বাবা-মা
এই মিশনে ‘অন্বেষা’ ছাড়াও ১৪টি ছোট উপগ্রহ ছিল, যার মধ্যে একটি ভারতীয় এবং বাকিগুলো ফ্রান্স, নেপাল, ব্রাজিল ও ব্রিটেনের বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থার মালিকানাধীন। কক্ষপথে উপগ্রহ স্থাপনে আংশিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও, প্রাথমিক উৎক্ষেপণ সফল হওয়ায় ইসরোর আরোহণ প্রযুক্তির সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে অত্যন্ত প্রত্যাশিত এই নজরদারি উপগ্রহটির ক্ষতি ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ পরিকল্পনায় একটি অস্থায়ী ধাক্কা বলে বিবেচিত হচ্ছে।












