‘অত্যন্ত মানবিক কাজ করেছেন…’, মমতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ফের একবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Justice Abhijit Gangopadhyay) মুখে। বুধবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্য়ায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সোজাসুজি তার বাড়িতে পৌঁছে যান ২০১৬-র এসএলএসটি (SLST) চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। তাদের কারও কারও হাতে ‘আমরা ভগবান দর্শনে এসেছি’, ‘ভগবান উদ্ধার করুন’, প্ল্যাকার্ড। তাদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।

   

এদিন চাকরিপ্রার্থীরা বিচারপতিকে জানান, নবম দশমের কর্মশিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক হিসাবে সুপারিশপত্র পাওয়ার পর ১৩ মাস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু নিয়োগপত্র পাচ্ছেন না তারা। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়েই বিচারপতিকে সুপারিশ করতে অনুরোধ করেন তারা। তাদের মুখে উঠে আসে সোমা দাস প্রসঙ্গ। চাকরিপ্রার্থীদের কথায়, ‘ আপনি যেভাবে সোমা দাসকে চাকরি পাইয়ে দিয়েছিলেন সেভাবে আমাদেরটাও করিয়ে দিন।’

এই কথার প্রেক্ষাতেই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘সোমা দাসের চাকরি ব্যবস্থা আমি করিনি। ওনার চাকরির ব্যবস্থা আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি শুধুমাত্র অনুরোধ করেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টা খুবই মানবিকভাবে দেখেছিলেন।” মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত মানবিক কাজ করেছেন।’

প্রসঙ্গত, মাস কয়েক আগে সোমা দাস নামে এক ক্যান্সার আক্রান্ত চাকরিপ্রার্থীকে তার এজলাসে বসে থাকতে দেখে তাকে চাকরি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। বিচারপতির অনুরোধ মতো সোমাকে দ্রুত শিক্ষক পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। নবান্নসুপারিশ করতেই হয়েছিল কাজ। চাকরি পাওয়ার পর সোমা বলেছিলেন, এবার ঠিক মতো ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে পারব। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়কেও ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন তিনি। এদিন সেই কথাই উঠে আসে বিচারপতির মুখে।

আরও পড়ুন: আন্দোলনেই কাজ! সরকারি কর্মীদের DA বাড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী, তবুও কেন্দ্রের থেকে অনেক পিছিয়ে

গতকাল ২০১৬-র এসএলএসটি (SLST) চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ তিনি কথা বলেন। তাদের হতাশ না হয়ে পড়ার উপদেশ দেন বিচারপতি। চাকরিপ্রার্থীদের সাথে কথা বলার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমেরও মুখোমুখি হন বিচারপতি।

justice ganguly

চাকরিপ্রার্থীদের মনের জোর না হারিয়ে আইনি পদ্ধতিতে এগোনোর পরামর্শ দেন বিচারপতি। বিচারপতি বলেন, ‘আপনাদের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন। মামলাটা কোন জায়গায় রয়েছে সেটা জানুন।’ এক চাকরিপ্রার্থী জানান, তাদের কাছে মামলা লড়ার মতো প্রয়োজনীয় অর্থ নেই।

চাকরিপ্রার্থীদের লিগাল এইডে যাওয়ার পরামর্শ দেন বিচারপতি। সেক্ষেত্রে লিগাল এইড সবরকম খরচ বহন করবেন বলেও চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বাস দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, ‘কান্নাকাটি করবেন না। ভারতবর্ষের আইন এখনও এমন রয়েছে যে হকের পাওনা পাওয়া যাবে।’