বাংলাহান্ট ডেস্ক : নতুন বছরের শুরুতেই বেকারত্ব বাড়ল রাজ্যে। রাতারাতি কাজ হারালেন কামারহাটি (West Bengal) প্রবর্তক জুট মিলের প্রায় এক হাজার শ্রমিক। বছর শুরুর মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে কাজ হারিয়ে কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শ্রমিকরা। এদিন সকাল থেকেই মিল চত্বরে চলছে তীব্র বিক্ষোভ।
বছরের শুরুতেই কাজ হারালেন হাজার শ্রমিক (West Bengal)
জানা যাচ্ছে, এদিন সকালে কাজে এসে শ্রমিকরা দেখেন যে মিলের মূল ফটক তালা বন্ধ। গেটের সামনে একটি নোটিশ টাঙানো যাতে লেখা, অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রবর্তক জুট মিল বন্ধ রাখা হয়েছে। এমন নোটিশে মাথায় হাত পড়েছে শ্রমিকদের। বছরের শুরুতেই কর্মহীন হয়ে এবার সংসার খরচ, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চলবে কীভাবে তা ভেবেই দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁরা। কিন্তু হঠাৎ রাতারাতি মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত কেন?

কেন বন্ধ হল মিল: মিল কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অভাবের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। মিলের নোটিশে জানানো হয়েছে, কাঁচা পাটের দাম অত্যধিক হারে বেড়ে গিয়েছে, যার ফলে মিল চালানো আর সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান বাজারদরের হিসেবে কাঁচাপাট কিনলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে দাবি মালিক পক্ষের। তাই মিল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত। কিন্তু শ্রমিকদের অভিযোগ ভিন্ন।
আরও পড়ুন : সপ্তাহের প্রথম দিনেই বিকল মেট্রো, সকাল থেকে দুর্ভোগের চূড়ান্ত ব্লু লাইনে
পালটা অভিযোগ শ্রমিকদের: শ্রমিকদের অভিযোগ, পরিকল্পনা করে প্রতারণা করা হয়েছে তাঁদের সঙ্গে। তাঁরা শুরু থেকে সহযোগিতা করেছেন। মিল যাতে পুরোপুরি বন্ধ না হয় সেই অনুরোধ করেছেন। প্রথমে বলা হয়েছিল, সপ্তাহে (West Bengal) পাঁচদিন মিল চলবে। পরে সেটা চারদিনে নামানো হয়। আর এবার পুরোপুরি বন্ধই করে দেওয়া হল মিল। আগেভাগে কোনও আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা।
আরও পড়ুন : সরকারি চাকরির নিয়োগে জেনারেল ক্যাটেগরিতেও নাম থাকতে পারে SC/ST দের! ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট
শ্রমিক নেতারা জানান, রাজ্যের জুট শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর আর্জি জানানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ সৌগত রায় এবং কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তাঁরা। সরকার যদি হস্তক্ষেপ না করে তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।












