বাংলা হান্ট ডেস্ক: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হতে চলা নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে (Bangladesh) সাম্প্রদায়িক হিংসাত্মক ঘটনার অবসানের কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ওই দেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। এই আবহেই শরীয়তপুর জেলায় উত্তেজিত জনতার নৃশংস আক্রমণে আহত হিন্দু ব্যবসায়ী খোকনচন্দ্র দাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনযুদ্ধে পরাজিত হলেন। নতুন বছরের প্রাক্কালে গত ৩১ ডিসেম্বর তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। তারপর খোকনচন্দ্রকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বাংলাদেশে (Bangladesh) মৃত্যু খোকনচন্দ্র দাসের:
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, শরীয়তপুরের ডামুড্যা এলাকায় খোকন চন্দ্র দাস একটি ওষুধ ও মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের দোকান চালাতেন। বুধবার রাতে, দোকান বন্ধ করে তিনি একটি অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। এরপর, কেয়ুরভাঙ্গা বাজারের কাছে, হামলাকারীরা তাঁকে থামায়। আক্রমণকারীরা প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত করে তারপর পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। জীবন বাঁচাতে খোকন কাছের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। কিন্তু ততক্ষণে তিনি মারাত্মকভাবে পুড়ে যান।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দুদের টার্গেট করা হচ্ছে। এর আগে, গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। বাংলাদেশে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি হিন্দুদের ওপর চতুর্থ বড় হামলার ঘটনা।
আরও পড়ুন: আর নয় জল্পনা! IPL ২০২৬-এ খেলতে পারবেন না মুস্তাফিজুর, KKR-কে কী নির্দেশ দিল BCCI?
এদিকে, ভারত এই ঘটনাগুলিতে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বিষয়গুলিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে অভিহিত করেছে। মার্কিন বিদেশ দফতরও হিন্দুদের ওপর চলা এই নির্যাতনকে ভয়াবহ বলে অভিহিত করেছে এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। এদিকে, খোকনের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ডামুড্যা থানায় রাব্বি ও সোহাগ নামে দুই স্থানীয় যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। খোকনের স্ত্রী সীমা দাস অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর স্বামী হামলাকারীদের চিনতে পেরেছিলেন। তাই,তাঁকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: বিতর্কের আবহেই ৬ টি ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশে যাবে টিম ইন্ডিয়া! ঘোষণা হল শিডিউল
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই ঘটনাগুলির নিন্দা জানিয়েছে। কিন্তু, হিংসাত্মক ঘটনা থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মানবাধিকার সংস্থাগুলির দাবি, নির্বাচনের আগে উগ্রপন্থী শক্তিগুলি ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় বিভাজনের দূরত্ব এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে।












