‘আমাকে মেরো ফেলো, কিন্তু আমার স্ত্রী-ছেলেকে ছেড়ে দাও’, কোর্ট চত্বরে কাতর আবেদন মানিকের

বাংলাহান্ট ডেস্ক : কোর্ট রুমের বাইরে চোখের জলে ভাসলেন মানিক। গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে বারবার জেরার মুখে পড়তে হয়েছে মানিক ভট্টাচার্যকে (Manik Bhattacharya)। মানিকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব অভিযোগ সামনে এনেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা। আদালতে পেশ করা হয়েছে বিরাট অংকের টাকার দুর্নীতির হিসাব। কিন্তু এত কিছু পরও এভাবে কখনও ভেঙে পড়েননি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতিকে। চার্জশিটে স্ত্রী ও ছেলের নামের উল্লেখ রয়েছেই জানতে পেরে ভেঙে পড়লেন মানিক। আজ বুধবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়। আর এদিনই তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করেছে ইডি। এই চার্জশিটে নাম রয়েছে মানিকের স্ত্রী ও পুত্রের নাম। আদালতে ইডি একথা জানানোর পরই হতাশ হয়ে পড়েন মানিক।

   

আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়ে সোজা তাঁর আইনজীবীর কাছে চলে যান মানিক ভট্টাচার্য। তাঁকে গিয়ে অনুনয় করে বলেন, ‘আমাকে মেরে ফেলো, কিন্তু আমার ছেলে ও স্ত্রী’কে জডিয়ো না।’ এরপরই সংবাদমাধ্যমকে মানিক জানান, ‘আমি আগেও কিছু বলিনি। এখনও আমার কিছু বলার নেই।’

এদিন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানিকের নামে থাকা মোট ৬১ টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৭.৯ কোটি টাকার হদিশ পাওয়া গেছে। পুরো টাকাটাই বাজেয়াপ্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা। সম্পত্তির হিসেব আলাদা বলেই জানিয়েছেন গোয়েন্দারা। এই ৭.৯ কোটির মধ্যে রয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড ও শেয়ারের টাকাও।

এই মামলায় মোট ৫,২৪৭ টি নথি পাওয়া গিয়েছে। ৬০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি। তবে মানিকের স্ত্রী ও ছেলেকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। এই মামলাশলয় তাঁদের ভূমিকা কতটা ছিল তা নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন ইডি-র আইনজীবীরা। এখনও পর্যন্ত ২৯ কোটি টাকার হিসেব পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি করেছে ইডি। এছাড়া চার্জশিটে নাম রয়েছে মানিক ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডলের। তাপসকে আগেই একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, মানিকের ছেলে ও স্ত্রীর নাম আগেও সামনে এসেছে। এর আগে মানিকের স্ত্রীর একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, যেখানে এক মৃত ব্যক্তির নাম থাকার অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলের একটি কনসালটেন্সি সংস্থাও ছিল বলে জানা গিয়েছে। এই সংস্থাটির মাধ্যমেই বেসরকারি বিএড কলেজগুলি থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করে ইডি।