বাংলা হান্ট ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে বঙ্গে চালু হয়েছে মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে ডাল ভাত সবজি ও ডিম দিয়ে খাবার।এ সমস্ত দায়ভার নিয়েছে কলকাতা কর্পোরেশন (KMC)। আর এই খাবার গরীব মানুষের পাতে তুলে দেওয়ার জন্য এক বিশেষ প্রকল্প চালু হয়েছে। যেটি ‘মা ক্যান্টিন নামে পরিচিত’। আর যদিও মাত্র ৫ টাকায় পেট ভরে ভাত, ডাল, ডিম পাওয়া বর্তমান দিনে অবিশ্বাস্য ব্যাপার। কিন্তু এই ক্যান্টিনে ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ টাকায় পেট ভরে ভাত জুটছে অনেকেরই কপালে। যদিও ক্যান্টিনের স্টলে তেমন লাইন না থাকলেও ঘন্টাখানেকের মধ্যে ফুরিয়ে যাচ্ছে ৫ টাকার বিনিময়ে এই খাবার। তবে মাঝখানেক আগে যেখানে পোলট্রির ডিম জোড়া ছিল ১১ টাকা। অর্থাৎ একটা ডিমের দাম ছিল ৫ টাকা ৫০ পয়সা করে। সেখানে এই ডিমের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা। যার ফলে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে পোলট্রির ডিম। অন্যদিকে হাঁসের ডিম এখন বর্তমানে জোড়ায় ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে মাথায় হাত পড়েছে সাধারণ মানুষদের।
ডিমের দাম বাড়লেও থামছে না সমাজসেবা, ৩০ হাজার প্লেটে খাবার তুলতে প্রস্তুত কর্তৃপক্ষ (KMC)
তবে ডিম মহার্ঘ হলেও যাতে গরীবদের পা থেকে উধাও না হয়। সেই দিকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কলকাতা পুন নিগমের সমাজবিভাগ। তাই এই পরিস্থিতিতেও প্রতিদিন ৩০০০০ গরিব মানুষদের পাতে পাঁচ টাকার বিনিময়ে ডিম ভাত এখনো তুলে দিচ্ছে কলকাতা কর্পোরেশন (KMC)। শুধুমাত্র তাই নয় এর পাশাপাশি আগামী দিনে মাসে সংখ্যাটা আরও দুই থেকে তিন হাজার প্লেট বাড়াবে বলে এমনটাই জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: শীতের ঠান্ডা আরও বাড়িয়ে দেয় কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজম সমস্যার ঝুঁকি! জানুন মুশকিল আসান করার কার্যকর উপায়
তাছাড়াও, শীতকালে দেশের পাশাপাশি রাজ্যে ডিমের চাহিদা বাড়ে। তাই এখন থেকে প্রতিদিন ৪ কোটির বেশি ডিমের চাহিদা রয়েছে বাজারে। কিন্তু চাহিদা থাকলে পরেও রাজ্যের উৎপাদন ও বাইরে থেকে আসা মোট যোগান দিচ্ছে আড়াই থেকে তিন কোটি। যার ফলে প্রতিদিন এক কোটি ডিমের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। যার কারণবশত দ্রুত গতিতে দাম বাড়ছে ডিমের।
তবে এই প্রসঙ্গে ডিম বিক্রেতাদের সংগঠনের কর্তা কাজল দত্ত জানিয়েছেন, চাহিদা অনুযায়ী ঘাটতি অনেকটাই। তাই গোটা দেশের চাহিদা বেড়েছে। তাছাড়াও শীতে চাহিদা আরও বাড়বে। তবে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে আপাতত থাকবে পোলট্রি ও হাঁসের ডিম। ৮ টাকার থেকে এর মধ্যে দাম কমায় সম্ভাবনা নেই। বরং ডিমের দাম আরো বেড়ে যেতে পারে।
তবে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, মুখ্যমন্ত্রীর চালু করা মা ক্যান্টিন গুলিতে খাবারের যোগান যাতে কোনোভাবেই কম না পড়ে। পাশাপাশি ডিম যেতে বাদ না পরে সেই নিয়ে ইতিমধ্যে পরিকল্পনা শুরু করেছে কলকাতা কর্পোরেশনের (KMC) সমাজবিভাগ। এই মুহূর্তে প্রতিটি ওয়ার্ড ও কলকাতার ছোট বড় সরকারি হাসপাতালে রয়েছে মা ক্যান্টিন। যেখানে প্রতিদিন ৩০ হাজার প্লেট খাবার বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও এই বিষয়ে কলকাতা কর্পোরেশনের সমাজ ক্ষেত্র বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ সদস্য মিতালী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসছি। আর এটি মুখ্যমন্ত্রী একটি প্রকল্প। যার ফলে এখান থেকে কোনভাবেই ডিম বাদ দেওয়া যাবে না। ৫ টাকা হোক কিংবা দশ টাকা। কিভাবে কি করা যায় সেই নিয়ে আলোচনা করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকারি ভর্তুকি যেমন দিচ্ছে, তেমনই সামাজিক ক্ষেত্র বিভাগ কিছু টাকা দেবে বা মেয়রের কাছে আবেদন করা হবে। তবে মাত্র ৫ টাকার বিনিময় গরিব ও প্রান্তিক মানুষগুলো দুপুরে যাতে পেট ভরে খাবার পান সেদিকে নজর সবসময় রাখা হবে।












