বাংলা হান্ট ডেস্ক : কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন নিয়ে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। অষ্টম বেতন কমিশনে (8th Pay Commission) কর্মচারী সংগঠনগুলি যে প্রস্তাব জমা দিয়েছে, তাতে ন্যূনতম মূল বেতন ৬৯ হাজার থেকে ৭২ হাজার টাকা করার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এই অঙ্কগুলি এখনও কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদিত নতুন বেতন কাঠামো নয়। কমিশনের সুপারিশ এবং সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে কর্মীরা শেষ পর্যন্ত কতটা বেতন বৃদ্ধি পাবেন।
অষ্টম বেতন কমিশনে (8th Pay Commission) মূল বেতন বাড়লে বেড়ে যাবে আয় ?
অষ্টম বেতন কমিশনের দুদিন ব্যপী বৈঠক শেষ হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, তাঁদের সংগঠন এবং পেনশনভোগীরা নতুন বেতন কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় রয়েছেন। গত কয়েক মাসে কর্মচারী সংগঠনগুলি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, ন্যূনতম মূল বেতন, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন, ছুটি নগদীকরণ এবং কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর মতো বিষয় নিয়ে নিজেদের দাবি ও মতামত জানিয়েছে। এর মধ্যে মূল বেতন কতটা বাড়তে পারে, তা নিয়ে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। কারণ, মূল বেতনের অঙ্কের উপর শুধু মাসিক আয়ের হিসাবই নির্ভর করে না, দীর্ঘমেয়াদে বেতন বৃদ্ধি এবং অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধার হিসাবেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
সরকারি কর্মচারীর বেতনের যে নির্দিষ্ট অংশের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার হিসাব করা হয়, সেটিই মূল বেতন। ফলে মূল বেতন বেশি হলে, সংশ্লিষ্ট নিয়মের ভিত্তিতে ডিএ ও এইচআরএ-র অঙ্কও বাড়তে পারে। নতুন বেতন কমিশনে মূল বেতন নির্ধারণের বিষয়টি কর্মচারীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চতর মূল বেতনের প্রভাব দীর্ঘ কর্মজীবনে কীভাবে বাড়তে পারে, তা ব্যাখ্যা করেছেন ব্যাঙ্কবাজারের সিইও আধিল শেঠি। তাঁর কথায়, “ক্যারিয়ারের পুরো সময় জুড়ে উচ্চ মূল বেতনের একটি চক্রবৃদ্ধি প্রভাব রয়েছে। সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মূল বেতনের ৩%, তাই উচ্চতর প্রারম্ভিক ভিত্তি প্রতি বছর বড় ইনক্রিমেন্টে পরিণত হয়।”
তিনি আরও বলেন, “ডিএ এবং এইচআরএ-এর মতো ভাতাগুলোও মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত, যা সামগ্রিক আয় বাড়িয়ে তোলে। ২০ বছরের ব্যবধানে এই ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। একটি উচ্চতর সংশোধিত মূল বেতন পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং ছুটি নগদায়নের মতো অবসরকালীন সুবিধাও বাড়িয়ে দেবে, যা সর্বশেষ প্রাপ্ত মূল বেতনের উপর ভিত্তি করে গণনা করা হয়।”

আরও পড়ুন : ‘জোর ভয় পেয়েছে বিজেপি!’ চোরবাগান প্রসঙ্গে বিস্ফোরক কুণাল ঘোষ
বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অষ্টম বেতন কমিশন বর্তমানে আলোচনা ও পরামর্শ সংগ্রহের পর্যায়ে রয়েছে। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক পুলক ঘোষ এবং সদস্য-সচিব পঙ্কজ জৈন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, কমিশন গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। সেই হিসাবে ২০২৭ সালের মে-জুন মাস নাগাদ প্রতিবেদন জমা পড়তে পারে। তবে প্রতিবেদন জমা পড়া এবং নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।














