বাংলা হান্ট ডেস্ক : কলকাতার মেট্রো (Kolkata Metro) পরিষেবা আরও বিস্তৃত করার পথে শুধু স্টেশন বা সুড়ঙ্গ তৈরি করলেই হবে না, ট্রেন চালানোর উপযুক্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখতে হবে। সেই লক্ষ্যেই পার্পল লাইনের জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দের কাজ শুরু করল রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)। ডায়মন্ড পার্ক–জোকা–এসপ্ল্যানেড (Joka-Esplanade Metro) করিডরের বিভিন্ন অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংস্থাটি ২৯৭.৪৫ কোটি টাকার টেন্ডার ডেকেছে।
জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো করিডরের (Joka-Esplanade Metro) জন্য টেন্ডার
এই প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মেট্রোর ভূগর্ভস্থ অংশকে। মোমিনপুর থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত চারটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন এবং সেগুলিকে সংযুক্ত করা সুড়ঙ্গে বিদ্যুৎ পরিকাঠামো বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে জোকা থেকে আইআইএম পর্যন্ত উড়ালপথের অংশেও ট্রেন চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। অর্থাৎ, করিডরের ভূগর্ভস্থ ও উড়াল—দুই অংশের জন্যই বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শুধু যন্ত্রপাতি বসিয়েই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে না। বিদ্যুৎ বণ্টনের সরঞ্জাম সরবরাহ, সেগুলির ইনস্টলেশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং কার্যকর করার দায়িত্বও এই কাজের মধ্যে পড়ছে। মেট্রো ট্রেনের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ট্র্যাকশন সাবস্টেশন তৈরি করা হবে। পাশাপাশি, ট্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বসানো হবে ৭৫০ ভোল্ট ডিসি থার্ড রেল ব্যবস্থা। এই প্রযুক্তিতে লাইনের পাশে থাকা একটি বিশেষ বিদ্যুৎবাহী রেলের সংযোগের মাধ্যমে ট্রেন বিদ্যুৎ পায়।
এদিকে, পার্পল লাইনের নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায় এখনও চলছে। মাঝেরহাট থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ অংশে কাজের পাশাপাশি ভিক্টোরিয়া ও পার্ক স্টেশন তৈরির কাজও এগোচ্ছে। মোমিনপুর থেকে ভিক্টোরিয়ার দিকে সুড়ঙ্গ খনন এই সম্প্রসারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যদিকে, জমি-সহ নানা সমস্যায় খিদিরপুর ও এসপ্ল্যানেড স্টেশনের কাজ বাধার মুখে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন :গঙ্গার ভাঙন রুখতে এবার কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক, স্থায়ী সমাধানের খোঁজে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
জোকা থেকে আইআইএম পর্যন্ত উড়ালপথের জন্যও বিদ্যুৎ সরবরাহ ও থার্ড রেল ব্যবস্থা স্থাপনের টেন্ডার করেছে RVNL। ফলে পার্পল লাইনে ট্রেন চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো তৈরির কাজও নির্মাণের পাশাপাশি এগোচ্ছে। কলকাতার দক্ষিণ ও মধ্য অংশের মধ্যে মেট্রো যোগাযোগ সম্প্রসারণে এই করিডর গুরুত্বপূর্ণ। তবে যাত্রীদের জন্য পুরো পরিষেবা চালু হতে হলে নির্মাণ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট কাজগুলি সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। এখন দেখার, টেন্ডারের পরবর্তী ধাপ ও প্রকল্পের কাজ কত দ্রুত এগোয় তার দিকে।














