বিধানসভায় সাসপেণ্ড ৭ বিজেপি বিধায়ক, স্পিকারের কাছে হলফনামা তলব হাইকোর্টের

বাংলাহান্ট ডেস্ক : গত ২৮ মার্চ বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বিধানসভা। বিজেপি এবং তৃণমূল বিধায়কদের মধ্যে বচসা গড়ায় হাতাহাতি অবধি। আহত হন দুতরফেরই একাধিক বিধায়ক। সেই ঘটনার জেরে বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয় ৭ বিধায়ককে। এবার সেই মামলারই হলফনামা তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী সোমবারের মধ্যেই আদালতের কাছে এই হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি রাজশেখর মান্থার বেঞ্চ।

এই সাসপেণ্ড নোটিশ প্রত্যাহারের দাবিতেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই ৭ বিজেপি বিধায়ক। সোমবারের শুনানিতে ৭ জন বিধায়কের আইনজীবী দাবি করেন, ‘বিরোধী দলের ৭ জন বিধায়ককে আগামী ৫ বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। এভাবে বিরোধী দলের নেতাদের সাসপেণ্ড করা হলে বিধানসভায় বিরোধীরা কথা বলবেন কীভাবে? বিরোধীদের কন্ঠরোধ করতে চাইছে বর্তমান সরকার।’

এরপরই বিবাদ শুরু হয় দুপক্ষের আইনজীবিদের মধ্যে। এই সময়ই সাসপেনশনের মেয়াদ নিয়ে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীকে বলেন, ‘বিষয়টি এবার বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে।’ সেই সঙ্গেই এক সপ্তাহের মধ্যে স্পিকারের হলফনামা দাখিল করতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২৮ মার্চের ঘটনায় সাসপেণ্ড হওয়া বিজেপি নেতারা হলেন শুভেন্দু অধিকারী, মনোজ টিগগা,শঙ্কর ঘোষ, নরহরি মাহাতো, দীপক বর্মন। এছাড়াও সাসপেণ্ড কর আহয় মিহির গোস্বামী ও সুদীপ মুখোপাধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। অন্যদিকে মনোজ টিগগা সচেতক। তাই তাঁদেরকে বাদ দিয়ে বিধানসভা যে একপ্রকার অপ্রাসঙ্গিক তেমনটাই জানাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফলে অতি শীঘ্রই যে খারিজ হতে পারে সাসপেণ্ডের নোটিশ, তেমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহলের একাংশ।