বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কচুরিপানা আর আগাছায় ঢেকে যাওয়া একটি পুকুর। জল দেখা যেত না, চারদিকে আবর্জনা। গল্ফগ্রিনের সেই জলাশয়কে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল এলাকার মানুষের। অবশেষে সেই পুকুর সংস্কারের কাজ শুরু করতে চলেছে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)।
জলাশয় সংস্কারের জন্য প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে
গল্ফগ্রিনের পি জি এইচ শাহ রোডে অবস্থিত এই জলাশয়টি বহুদিন ধরে অবহেলায় পড়ে ছিল। প্রবাদপ্রতিম শিল্পী প্রয়াত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির পাশেই থাকা এই বড় পুকুরটি কচুরিপানা ও আগাছায় ভরে যায়। সঙ্গে জমে ওঠে আবর্জনা। ফলে এলাকাবাসীর কাছে পুকুরটি কার্যত একটি ‘পচা ডোবা’ হয়ে উঠেছিল। এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছিল না। তবে শেষ পর্যন্ত সেই জটিলতা কাটিয়ে জলাশয় সংস্কারের জন্য প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) আধিকারিকরা পুকুর এলাকা পরিদর্শন করে মাপজোক করেছেন। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যেই সংস্কারের কাজ শুরু হবে। প্রথমে পুকুর থেকে সমস্ত কচুরিপানা ও আগাছা পরিষ্কার করা হবে। এরপর শালবল্লা দিয়ে পুকুরের ধার বাঁধানো হবে। সংস্কারের অংশ হিসেবে পুকুরের পাড় ঘিরে তৈরি হবে হাঁটার পথ বা ওয়াকওয়ে। বসানো হবে আলো এবং রেলিং। সব কাজ শেষ হলে পুকুরে আবার জল ভরবে এবং জলাশয়টি সুন্দর ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠবে।
৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তপন দাশগুপ্ত জানান, এলাকার মানুষ অনেকদিন ধরেই এই পুকুর সংস্কারের অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালান। শেষ পর্যন্ত সব জটিলতা কাটিয়ে কাজ শুরু হতে চলেছে। তিনি আরও জানান, সাংসদ সায়নী ঘোষ সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে এই প্রকল্পের জন্য ১৬ লক্ষ টাকা দিয়েছেন। পাশাপাশি, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও উদ্যোগ নিয়েছিলেন যাতে দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু করা যায়।

আরও পড়ুনঃ নতুন বছরের শুরুতে ছাত্র বৃত্তি আর বিহু বোনাস নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, কারা পাবেন?
স্থানীয় বাসিন্দা বৈকুণ্ঠ চক্রবর্তী বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আশা এবার পূরণ হতে চলেছে। তিনি বলেন, এত ভালো এলাকায় পুকুরটি এমন অবস্থায় পড়ে থাকা খুবই খারাপ লাগত। অনেক আবেদনের পর পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) পুকুরটি সংস্কার করতে চলেছে। পুকুরটি সংস্কার হলে এলাকার সৌন্দর্য বাড়বে এবং পরিবেশও ভালো হবে।












