বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতা শহরের হকারদের নিয়মে আনতে বড় পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা হকার শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া অবশেষে শুরু হতে চলেছে চলতি জানুয়ারিতেই। প্রথম দফায় কিউআর কোড সম্বলিত ডিজিটাল ভেন্ডিং সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, যার মাধ্যমে একদিকে যেমন বেআইনি হকারদের চিহ্নিত করা যাবে, তেমনই স্টল বা ডালা বিক্রির প্রবণতাও আটকানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুরসভা।
এ মাসেই হকারদের শংসাপত্র দেবে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)
চলতি জানুয়ারিতেই কলকাতার হকারদের জন্য ডিজিটাল ভেন্ডিং সার্টিফিকেট বা হকার শংসাপত্র দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। গত বছর ১৬ আগস্ট প্রথম দফায় কিউআর কোড সম্বলিত এই শংসাপত্র দেওয়ার কথা ছিল। তবে বিশেষ কারণে তখন তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিলতেই এ মাসে অন্তত ৮ হাজার ৭২৭ জন হকারকে শংসাপত্র দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এই ডিজিটাল শংসাপত্রে সংশ্লিষ্ট হকারের যাবতীয় তথ্য থাকবে। কিউআর কোড স্ক্যান করলেই জানা যাবে, ওই ব্যক্তি নিজে হকারি করছেন কি না, অথবা অন্য কাউকে স্টল বিক্রি করেছেন কিংবা জায়গা ভাড়া দিয়েছেন কি না। পুরসভার মতে, এর ফলে স্টল বা ডালা বিক্রির প্রবণতা অনেকটাই আটকানো যাবে। পাশাপাশি বেআইনি হকারদের চিহ্নিত করে নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হবে।
পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রতিটি হকার শংসাপত্রের জন্য বছরে ৮০০ টাকা নেওয়া হবে। পুনর্বাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার জানিয়েছেন, চলতি মাসেই প্রথম দফার সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে এবং সম্প্রতি হওয়া হকার সংক্রান্ত সমীক্ষায় যাঁদের নাম রয়েছে, এবং যাঁরা নিয়ম মেনে ফুটপাতে নির্দিষ্ট অংশে হকারি করছেন, তাঁদেরই প্রথম দফায় শংসাপত্র দেওয়া হবে। যাঁরা এখনও পুরোপুরি নিয়ম মেনে ব্যবসা করছেন না, তাঁরা নিয়ম মানলে পরবর্তী ধাপে শংসাপত্র পাবেন। এই সার্টিফিকেট থাকলে হকাররা ব্যাংক থেকেও ঋণ নিতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Rose Valley কাণ্ডে বড় মোড়! সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল ED, ফরেন্সিক অডিটে আর বাধা নয়
উল্লেখ্য, শহরের যত্রতত্র হকার বসা নিয়ে আগেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরই দখলদার উচ্ছেদে অভিযান শুরু হয়। যদিও ২০২৪ সালে পুজো এসে যাওয়ায় সেই অভিযান থমকে যায়। পরে ২০২৫ সালের মে মাস থেকে ফের অভিযান শুরু হয়। পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের সমীক্ষায় কলকাতা শহরে মোট ৫৪ হাজার ১৭৮ জন হকারকে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম দফার সমীক্ষায় নথিভুক্ত হয়েছিল প্রায় ১৪ হাজার জন। আপাতত সেই তালিকা থেকেই ৮ হাজার ৭২৭ জন হকারকে শংসাপত্র দেওয়া হবে।












