টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গরাজনীতি

‘ফিরহাদ হাকিম শ্রীমান ছাপড়া, সবেতেই মন্তব্য করে’, এবার কলকাতার মেয়রকে খোঁচা মদনের

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ‘ফিরহাদ হাকিম ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী বাসিন্দা। উনি মিস্টার ছাপড়া। আপনি সময় পেলে আমার বক্তব্য একবার শুনে নেবেন’, ফেসবুক লাইভে এসে ঠিক এই ভাষাতেই তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) নেতা তথা কলকাতার (Kolkata) মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে (Firhad Hakim) কটাক্ষ করলেন কামারহাটির (Kamarhati) বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। একই সঙ্গে মহালয়ায় তর্পণ বিতর্ক নিয়োগ ইস্যুতেও একাধিক মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, মহালয়ার দিন পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করে তাদের উত্তরসূরীরা। সেই উপলক্ষ্যে বাবুঘাটে পৌঁছে যান মদন মিত্র। তবে পরবর্তীতে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছবিতে মালা পরাতে দেখা যায় তাঁকে, যা নিয়ে একের পর এক বিতর্ক জন্ম নেয়। এক্ষেত্রে মদন মিত্রের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা সরব হয় রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। একইসঙ্গে মদনবাবুর পাশে দাঁড়ায়নি তাঁর নিজের দলও। বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতার সমালোচনায় নামেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম।

তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেন, “দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারীদের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক মত পার্থক্য রয়েছে। তবে আমরা সবার দীর্ঘায়ু কামনা করি। যারা জীবিত, তাদের তর্পণ কখনোই হয় না।” এরপরই মদনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ও কি করেছে, জানি না। তবে যদি এ কাণ্ড করে থাকে, তবে অন্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস এইসব ছ্যাবলামো পছন্দ করে না।”

যারপর এবার ফেসবুক লাইভে এসে ফিরহাদকে ‘মিস্টার ছাপড়া’ বলে কটাক্ষ ছুড়ে দিলেন মদন মিত্র। লাইভের প্রথমে ফিরহাদকে ‘ছোট ভাই’ বলে সম্বোধন করলেও পরবর্তীতে মদন বলেন, “বর্তমানে ফিরহাদ ওভারলোডেড হয়ে গিয়েছে। একদিকে আরবান মিনিস্ট্রির দায়িত্ব, এর উপর কলকাতার মেয়র এবং পাশাপাশি দলের দায়িত্বভার, সব মিলিয়ে ওর ওপর চাপ বেড়ে চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেকের পর দলের প্রধান মুখ হয়ে উঠেছে ফিরহাদ। দলের যে কোন ব্যাপার থেকে শুরু করে তর্পণ বিতর্ক, সবেতেই ও মুখ খুলছে। তবে আমি ওকে বলতে চাই যে, সময় পেলে আমার বক্তব্য ভালো করে দেখুক।”

পরবর্তীতে তর্পণ বিতর্ক মাঝে ড্যামেজ কন্ট্রোল করতেও দেখা যায় মদন মিত্রকে। তিনি বলেন, “আমি দিলীপ ঘোষ এবং তাঁর পরিবারের সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করি। আমি কখনোই কারোর খারাপ চাই না। আসলে মহালয়ার দিন আমি দুটো মালা নিয়ে গঙ্গায় দিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেই সময় কয়েকজনের কাছে শুভেন্দু অধিকারী এবং দিলীপ ঘোষের ছবি দেখতে পাই। সেই কারণেই সেই ছবিগুলো নিয়ে পরবর্তীতে ওদের গলায় মালা পরাই। এক্ষেত্রে আগেও বলেছি, ওদের ছবিতে মালা পরানো কেবল প্রতীক মাত্র। ‘বিজেপির রাজনৈতিকভাবে অপমৃত্যু হয়েছে’, আমি এই বার্তা দিতে চেয়েছি। ফিরহাদ পারলে একবার আমার বক্তব্যগুলো ভালো করে দেখুক।”

Related Articles