টাইমলাইনপশ্চিমবঙ্গভারতরাজনীতি

একটা স্ট্যাচু বানিয়েই দেখনদারি, নেতাজি ও দেশপ্রেম নিয়ে মোদীকে তোপ মমতার

বাংলাহান্ট ডেস্ক : নেতাজি ইস্যুতে অব্যাহত কেন্দ্র রাজ্য সংঘাত। এরই মধ্যে ইন্ডিয়া গেটে নেতাজির মূর্তি বসানো নিয়ে মোদীকে ঠুকলেন মমতা। ‘একটা স্ট্যাচু করে দিলেন নেতাজিকে ভালোবাসা যায় না’, এহেন কড়া ভাষাতেই তোপ দাগতে শোনা গেল তাঁকে।

নেতাজি জয়ন্তীতে ময়দানে নেতাজি মূর্তিতে মাল্যদানের পরই বিস্ফোরক হয়ে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ট্যাবলো বাতিল, অমর জওয়ান জ্যোতি, থেকে মূর্তি একাধিক ইস্যুতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। তিনি বলেন, ‘একটা স্ট্যাচু বানিয়ে দিলেন নেতাজিকে ভালোবাসা যায় না। একটা স্ট্যাচু করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। অনেক তো স্ট্যাচু করেছেন কোটি কোটি টাকা খরচ করে। দেশের ইতিহাসটা পড়েছেন”?

এছাড়াও স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অবদানের কথাও প্রধানমন্ত্রীকে মনে করান মমতা। কেন্দ্রকে কার্যতই হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাকে এত অবজ্ঞা। কিন্তু সবটাই তো বাংলাকে ঘিরে। বাংলার ইতিহাস মুছে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। ভারতের ইতিহাস মুছে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই।

নেতাজির মতবাদকে গ্রহণ করার বদলে ইতিহাসকেই ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ আনেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। এদিন ট্যাবলো বিতর্কেও বিঁধতে ছাড়েননি তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নেতাজির ট্যাবলো কেন বাতিল করেছেন আমরা জানি না। আমাদের কাছে কোনো কারণ দেখানো বা জানানো হয়নি। আপনারা বাতিল করলেও ২৬ জানুয়ারি রেড রোডে আমরা দেখাবো ওই ট্যাবলো। আমরা কিন্তু বরণ করে নেব নেতাজিকে’।

ক্ষমতায় এলে নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যেরও সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু সেই অর্থে সামনে আসেনি কিছুই। এই নিয়েই আক্রমন শানাতে ভোলেননি মমতা। গর্জে উঠে তিনি বলেন, ‘ আজও তো নেতাজির রহস্য উদঘাটন করতে পারলেন না। স্ট্যাচু যে বানিয়েছেন জন্মদিনের পাশাপাশি মৃত্যু দিনটা লিখতে পারবেন তো? আমরা কেউই পারব না। মূর্তি দিয়ে সবকিছু হয় না, অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়৷ নেতাজিকে আত্মস্থ করতে হয়।’ স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরও এই রহস্যের জট না খোলায় কার্যতই ব্যথিত মুখ্যমন্ত্রী।

এইদিনের বক্তব্যে দেশকে ভালোবাসার কথাও বলেন মমতা। নেতাজিকে ভালোবাসকে কখনও গৃহবিবাদ হয় না, হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ আসে না। এমনটাই দাবি তাঁর। কার্যতই এদিন মমতা বুঝিয়ে দিলেন দেশ প্রেম দেখনদারি নয়, বরং আত্মস্থ করে ছড়িয়ে দেওয়াই আসল লক্ষ্য।

Related Articles

Back to top button