মোদীর লাক্ষাদ্বীপ ভ্রমণের জেরে ‘উপহাস’ ভারতীয়দের! এবার চরম বিপাকে মালদ্বীপের নেতা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : মসনদ বদলের সঙ্গে হালকা ফাটল ধরেছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। মালদ্বীপের (Maldives) নতুন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু (Mohammed Muizzu) আসনে বসার সাথে সাথেই তিক্ততা বাড়লো ভারতের সাথে। গত শুক্রবার ক্ষমতাসীন প্রগ্রেসিভ পার্টি অফ মালদ্বীপের (PPM) দাপুটে নেতা জাহিদ রামিজের (Zahid Rameez) কটাক্ষ মোটেও ভালো চোখে নেয়নি সিংহভাগ মানুষ। ফলস্বরূপ, বেশ ভালোরকম গুঞ্জন শুরু হয়েছে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে।

   

গত শুক্রবারই ভারতীয়দের উদ্দেশ্যে তীব্র কটাক্ষ করলেন জাহিদ রামিজ। নেপথ্যে মোদীর (Narendra Modi) লাক্ষাদ্বীপ (Lakshadweep) সফরের ঝলমলে ছবি। দিনকয়েক আগেই ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপে গেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। একাধিক প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি লাক্ষাদ্বীপও ঘুরে দেখলেন তিনি। সেই ছবি প্রসঙ্গে এক ভারতীয় নাগরিকের মন্তব্যের পাল্টা জবাবে গোটা ভারতকে ছোট করেছেন জাহিদ।

ঐ ভারতীয় নাগরিক মোদীর লাক্ষাদ্বীপ ভ্রমণের ভিডিও নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি লেখেন, “দারুণ পদক্ষেপ! এটা চিনা সরকারের নতুন পুতুল মালদ্বীপের জন্য বড় ধাক্কা। তাছাড়া এর ফলে লাক্ষাদ্বীপে পর্যটন বাড়বে।” এক সাধারণ ভারতীয় নাগরিকের এই বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়েই বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন PPM-র দাপুটে নেতা জাহিদ রামিজ।

আরও পড়ুন :

তিনি পাল্টা পোস্ট করে লেখেন, ‘সত্যিই ভালো পদক্ষেপ। কিন্তু আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা ভুল হবে। আমরা যে পরিষেবা দিই, তা ওরা কীভাবে দেবে? কীভাবে ওরা এতখানি পরিচ্ছন্ন হবে? চিরকালীন দুর্গন্ধই তো সব থেকে বড় সমস্যা।’ স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছেনা সিংহভাগ ভারতীয়। এবং এর প্রভাব পড়েছে মালদ্বীপের পর্যটন শিল্পেও।

আরও পড়ুন : ‘ব্রিগেড ভালো হবে’, মীনাক্ষীদের হাত ধরে বড় বার্তা অসুস্থ বুদ্ধদেবের

সূত্রের খবর, মালদ্বীপের ক্ষমতাসীন দলের সদস্যের এই মন্তব্যের পর সেখানকার বহু হোটেলের বুকিং বাতিল করা হয়েছে। সেই সাথে লাক্ষাদ্বীপকে নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে মালদ্বীপের মানুষজনও। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে গুগল সব জায়গাতেই খোঁজা হচ্ছে লাক্ষাদ্বীপকে। সেই সাথে মালদ্বীপের প্রাক্তন কর্মকর্তা ফারাহ ফয়সাল বর্তমান রাষ্ট্রপতি মুইজু এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা জমিরকে কোণঠাসা করেছেন।

আরও পড়ুন : নজরে শিলিগুড়ি, ভুটানের পিঠে ছুরি মেরে গ্রামে দখল চীনের! সমস্যা বাড়ল ভারতের

ফারাহ বলেছেন, ‘মন্ত্রী মুসা জমিরকে তার অফিসারদের কূটনীতি শেখাতে হবে। এটা সত্যিই দুঃখজনক এবং লজ্জাজনক যে কিছু সরকারী আধিকারিক আমাদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ভারতে আক্রমণ করছে, অত্যন্ত অ-পেশাদার উপায়ে।’ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মুইজ্জুর ভারত বিদ্বেষ আজকের নয়। বহু আগে থেকেই ভারতের বিরোধিতা করে আসছেন তিনি। একদা তো বলেই দিয়েছিলেন যে, ভোটে জিতলে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করা হবে ভারতীয় সেনাকে। যদিও এখনও পর্যন্ত ভারতীয় সেনা বহাল তবিয়তেই রয়েছে সেখানে।

সম্পর্কিত খবর