বাংলা হান্ট ডেস্কঃ চলতি বছরেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার মধ্যেই SIR ঘিরে রাজ্য-রাজনীতি তুঙ্গে। মানুষের হেনস্তা এবং আতঙ্কের অভিযোগে উত্তাল এই পরিস্থিতিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট দিশা দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবসে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানিয়ে দিলেন কোন পথে লড়াই করতে হবে এবং কীভাবে সেই লড়াই চলবে।
প্রতিষ্ঠা দিবসে লড়াকু বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee)
বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে এক্স হ্যান্ডেলে দলের সমস্ত নেতা-কর্মীকে শুভেচ্ছা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পোস্টের শুরুতেই তিনি দলের জন্মলগ্নের কথা স্মরণ করেন। তৃণমূল সুপ্রিমো লেখেন, “মা-মাটি-মানুষের সেবার লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালের আজকের দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের পথচলা শুরু হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক যাত্রাপথের মূল দিশারী দেশমাতৃকার সম্মান, বাংলার উন্নয়ন এবং মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা। আজও আমাদের দলের প্রত্যেকটি কর্মী-সমর্থক এই লক্ষ্যে অবিচল এবং অঙ্গীকারবদ্ধ। তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগকে আমি বিনম্র চিত্তে সম্মান-শ্রদ্ধা জানাই।”
বর্তমানে SIR নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। মানুষের হেনস্তা এবং আতঙ্কের অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। এই আবহেই দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে আরও লড়াকু বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ধমকে বা চমকে তৃণমূলকে দমিয়ে রাখা যাবে না। এবার যে আরও বেশি লড়াই করতে হবে, সেই কথাও তিনি তুলে ধরেন।
বিজেপির হুঙ্কারের পর মমতার জবাব
সম্প্রতি বঙ্গ সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যের চারটি সাংগঠনিক জেলা থেকে ২০টি আসন জেতার লক্ষ্যমাত্রা দেন বিজেপি নেতাদের। পাশাপাশি তিনি দুই-তৃতীয়াংশ আসন দখল এবং এপ্রিল মাসে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের কথাও বলেন। ঠিক এই আবহেই সমস্ত রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। এক্স হ্যান্ডেলে মমতা লেখেন, “আপনাদের অকুন্ঠ সমর্থনকে পাথেয় করেই বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের প্রত্যেকটি মানুষের জন্য লড়াইয়ে অবিচল আমরা। কোনওরকম অপশক্তির কাছে মাথানত নয়, সকল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেই সাধারণ মানুষের জন্য আমাদের সংগ্রাম আজীবন চলবে।”
উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাত ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম। শুরু থেকেই আপসহীন লড়াইয়ের পথে হাঁটে দল। এক সময় দলে একমাত্র সাংসদ ছিলেন মমতা নিজেই। সেখান থেকে ধাপে ধাপে দলকে পৌঁছে দেন রাজ্যের ক্ষমতায়। দীর্ঘ ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে উৎখাত করে বাংলার মসনদে বসে তৃণমূল।

আরও পড়ুনঃ যুক্ত হচ্ছে বেলঘড়িয়া-কল্যাণী, এক সেতুতেই মিলছে দুই এক্সপ্রেসওয়ে, স্বস্তির খবর দিল নবান্ন
আজ তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যের বাইরে মেঘালয়ে প্রধান বিরোধী দল। ত্রিপুরা, অসম, কেরল এবং গোয়াতেও বিরোধী শক্তি হিসেবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে দল। রাজ্যে যখন বিধানসভা নির্বাচন একেবারে সামনে, তখন প্রতিষ্ঠা দিবসকে সামনে রেখেই নেতা-কর্মীদের আরও উজ্জীবিত করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো (Mamata Banerjee)।












