SIR শুনানি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল, দায়ের মামলা

Published on:

Published on:

Mamata Banerjee to Move Supreme Court Over Alleged Harassment During SIR
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা SIR নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার শুনানিতে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। প্রয়োজনে তিনি নিজেই সাধারণ মানুষের হয়ে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করবেন বলে জানিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি মমতার (Mamata Banerjee)

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) নিয়ে রাজ্যে যে ধরনের অরাজগতার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা সোমবার গঙ্গাসাগরের একটি কর্মসূচি থেকে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, SIR সংক্রান্ত শুনানির সময়ে সাধারণ মানুষকে নানা ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। এই বিষয়েই আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতার বক্তব্যের পরই সুপ্রিম কোর্টে মামলা রুজু করেন তৃণমূলের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের পক্ষ থেকে করা ওই মামলায় আবেদনকারী হিসেবে রয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন।

সোমবার গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস অনুষ্ঠানের পর মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) জানান, রাজ্যে এসআইআরের পরে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তাঁর দাবি, এমনকি ‘খুনিদেরও’ নিজেদের হয়ে সওয়াল করার অধিকার রয়েছে। সেখানে সাধারণ মানুষকে শুনানির নামে হেনস্থা করা হচ্ছে। মমতার অভিযোগ, এখন কৃত্রিম মেধা বা এআই-এর মাধ্যমে ঠিক করা হচ্ছে কার নাম থাকবে, কার নাম বাদ যাবে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরাও আইনের সাহায্য নিচ্ছি। মঙ্গলবার কোর্ট খুলছে। আমরাও আদালতে যাব। এত মানুষকে যেভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আদালতে যাব।” মমতা আরও জানান, প্রয়োজনে তিনি নিজেও সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মানুষের হয়ে কথা বলবেন। তিনি স্পষ্ট করেন, আইনজীবী হিসেবে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে তিনি সওয়াল করবেন। তাঁর কথায়, “প্রয়োজন পড়লে অনুমতি চাইব। দরকার হলে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে মানুষের হয়ে প্লিড করব। চোখে আঙুল দিয়ে দেখাব, কী ভাবে তৃণমূল স্তরে মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, SIR নিয়ে তৃণমূল আগে থেকেই আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি জমা দেয়। সেখানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বিতর্কও হয় বলে দলীয় সূত্রে খবর। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) নিজে কমিশনকে তৃতীয় বার চিঠি দেন। সাড়ে তিন পাতার ওই চিঠিতে এসআইআর প্রক্রিয়ার একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়া চললে বহু বৈধ ভোটার ভোটাধিকার হারাতে পারেন এবং তার ফলে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হবে।

মমতা (Mamata Banerjee) এসআইআরের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ চালানো হচ্ছে। পদবি বদলানো, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি যাওয়া, এই সব কারণ দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ইংরেজি ও বাংলা বানানের সামান্য অমিলেও ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। জাতিগত শংসাপত্র, আধার কার্ড বা ঠিকানার প্রমাণ, এগুলিকে নথি হিসেবে মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, শুনানির নামে বয়স্ক মানুষ, অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদেরও ডেকে পাঠানো হচ্ছে। ৮৫ বছরের মানুষ অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে হাজির হচ্ছেন শুনানিতে। এত দিন পর নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বলা হচ্ছে, এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মমতার (Mamata Banerjee) মতে, SIR হলে তা অন্তত দু’বছর সময় নিয়ে হওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, তড়িঘড়ি এই প্রক্রিয়া চালানোর ফলে রাজ্যে প্রায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ মানসিক চাপে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। এই প্রসঙ্গে নাম না করে বিজেপিকেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার ‘ভ্যানিশ’ হলে যারা এই কাজ করছে, তারাও ‘ভ্যানিশ’ হবে। এ লড়াই বাঁচার লড়াই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Mamata Banerjee Assigns Key Duties to BLAs at Netaji Indoor Meet

আরও পড়ুনঃ সাদা খাতা জমা দিয়েই চাকরি! পুরসভা নিয়োগে ভয়াবহ দুর্নীতির ছবি তুলে ধরল সিবিআই চার্জশিট

মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) এই ঘোষণার পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে লড়তে চাইলে লড়ুন। যা করার ওখানে গিয়ে করুন। বাংলার মানুষকে উত্ত্যক্ত করবেন না।” এসআইআর নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই এখন স্পষ্টভাবেই শীর্ষ আদালতের ময়দানে পৌঁছতে চলেছে।