বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গত বৃহস্পতিবার আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দপ্তরে হওয়া ইডির তল্লাশি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তল্লাশির সময় কী হয়েছিল, কেন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল এবং সেই সময়ের মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা, সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ইডির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে দায়ের হয়েছে দু’টি অভিযোগ, আবার ইডিও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইপ্যাক তল্লাশি নিয়ে কী হয়েছে আর কী হয়নি, তা নিয়েই এখন তদন্ত চলছে এবং সেই নিয়ে চার দিন পর প্রথমবার মুখ খুললেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা (Manoj Verma)।
পথ সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে লালবাজারে সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিলেন পুলিশ কমিশনার (Manoj Verma)
প্রসঙ্গত, সোমবার বিকেলে লালবাজারে একটি সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিলেন পুলিশ কমিশনার (Manoj Verma)। মূলত পথসুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে আয়োজিত হাফ ম্যারাথনের জার্সি প্রকাশই ছিল সেই বৈঠকের উদ্দেশ্য। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ দেবও। তবে সাংবাদিকদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দপ্তরে ইডির তল্লাশি নিয়ে পুলিশ কমিশনার কোনও মন্তব্য করেন কি না, তা নিয়ে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ইডির তল্লাশির সময় প্রতীকের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাও (Manoj Verma)। পরে ওই তল্লাশির ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে দু’টি FIR দায়ের হয়। তার মধ্যে একটি শেক্সপিয়র সরণি থানায়, যে এলাকার মধ্যেই প্রতীকের বাড়ি অবস্থিত।
কী বললেন মনোজ বর্মা?
সাংবাদিক বৈঠকের শেষ পর্বে একের পর এক প্রশ্ন করা হয় পুলিশ কমিশনারকে (Manoj Verma)। জানতে চাওয়া হয়, ইডির তল্লাশির সময়ে কী খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় পুলিশ। অতীতেও তো ইডি বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে, সে ক্ষেত্রে এই ঘটনায় এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায়কেও সেখানে যেতে হয়? এই সব প্রশ্নের উত্তরে সংক্ষিপ্ত ভাষায় মনোজ বর্মা বলেন, “আমি এই বিষয়ে খুব বেশি কিছু বলতে পারব না। আমরা দু’টি কেস করেছি এবং দু’টি কেসেই তদন্ত চলছে। এর বাইরে এই মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়। হয়তো অন্য কোনও দিন এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারি।”
সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলায় ইডির তরফে পুলিশের প্রসঙ্গে ‘চুরি’ বা ‘ডাকাতি’-র মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। এ নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি আছে কি না, তা জানতে চাওয়া হলে পুলিশ কমিশনার (Manoj Verma) বলেন, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তাই এখনই কোনও মন্তব্য করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, “আমি কী লেখা আছে, তা পড়িনি। শুধু শোনা কথার উপর মন্তব্য করা ঠিক হবে না। বিষয়টি আদালতের সামনে রয়েছে।”
এ ছাড়াও জানতে চাওয়া হয়, দু’টি অভিযোগের তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, কাউকে নোটিস পাঠানো হয়েছে কি না বা বৃহস্পতিবারের ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য ছিল কি না। প্রতিটি প্রশ্নের ক্ষেত্রেই সিপির উত্তর ছিল প্রায় একই। তিনি বলেন, তদন্ত চলছে, তবে বিস্তারিত তথ্য এই মুহূর্তে প্রকাশ করা ঠিক নয়। আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে হবে বলেও জানান তিনি। নবান্নে বা অন্য কোথাও পুলিশের তরফে কোনও রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে কি না, সে প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি মনোজ বর্মা (Manoj Verma)। শুধু বলেন, “আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী যা যা করণীয়, পুলিশ তা করছে।”

আরও পড়ুনঃ “৭০% মণ্ডল সভাপতি গ্র্যাজুয়েট, ভাইপো কিন্তু ১২ পাশ!” অভিষেকের মন্তব্যে পাল্টা দিলেন সুকান্ত
এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে পথসুরক্ষার প্রসঙ্গও তুলে ধরে কলকাতা পুলিশ। জানানো হয়, গত বছরে শহরে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। মোট ১৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় কম। পুলিশ কমিশনার (Manoj Verma) জানান, এই সংখ্যা আরও কমাতে কলকাতা পুলিশ কাজ করছে। পথসুরক্ষা নিয়ে কলকাতা পুলিশের উদ্যোগের প্রশংসা করেন সাংসদ দেবও।












