ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হিন্দু নাবালিকাকে মাথা থেঁতলে খুন! মাটিগাড়ায় অভিযুক্ত আব্বাসের বাড়ি ভাঙচুর এলাকাবাসীর

বাংলা হান্ট ডেস্ক : ধর্ষণে বাধা দেওয়াতেই কি খুন মাটিগাড়ার নাবালিকা (Minor Murder)! প্রাথমিক তদন্তে এমনই তথ্য উঠে আসছে বলে জানাল শিলিগুড়ির (Siliguri) পুলিস। ধৃত মহম্মদ আব্বাস মঙ্গলবার আদালতে তোলা হয়। সোমবার রাতে গ্রেফতারের পর প্রাথমিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে যেটুকু জানা গেছে তাতে তদন্তকারীদের অনুমান, ধর্ষণে বাধা দেওয়াতেই খুন করা হয়েছে ওই নাবালিকাকে।

দেহের পাশেই পড়েছিল রক্তমাখা ইঁট : সোমবার বিকেলে মাটিগাড়ায় (Siliguri) ঝোপজঙ্গলের মধ্যে পরিত্যক্ত একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয় ওই নাবালিকার থেঁতলানো দেহ। দেহের পাশে পড়েছিল ওই ছাত্রীর স্কুল ব্যাগ। রক্তমাখা একটি ইটও মিলেছিল সেখানে।

matigara 2

অভিযুক্ত মহম্মদ আব্বাস : এক তরুণের সঙ্গে তাকে শেষবার দেখা গিয়েছিল বলে পুলিসকে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। ঘটনার তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখে ওই তরুণকে শনাক্ত করে পুলিস। থানায় ডেকে তার সঙ্গে কথা বলার পর রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের নাম মহম্মদ আব্বাস (২২)। ধৃত মাটিগাড়ার লেনিন কলোনি এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা শুনতে পান মেয়েটির আর্তনাদ : সোমবার বিকেল চারটে নাগাদ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ওই নাবালিকার চিৎকার শুনতে পান। তাঁরা জানান, অল্প জঙ্গল মতো থাকায় এলাকার মানুষ খুব একটা সেখানে যেতেন না। তবুও আর্ত চিৎকার শুনতে পেয়েই তাঁরা সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে এক কিশোরী। মেয়েটির পরনে স্কুলের পোশাক। সঙ্গে সঙ্গে পুলিসে খবর দেন তাঁরা। পুলিস এসে নাবালিকার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। স্কুলের ড্রেস দেখে স্কুলে যোগাযোগ করে পুলিস। খবর যায় ওই নাবালিকার বাড়িতেও।

পুলিসের দাবি, রাতে গ্রেফতারের সময় ওই যুবক মদ্যপ অবস্থায় ছিল। রাতভর দফায় দফায় তাকে জেরা করা হয়। পুলিসের অনুমান, ধর্ষণে বাধা দেওয়াতেই খুন করা হয়েছে ওই নাবালিকাকে। ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করে নিশ্চিত হতে চায় পুলিস।

আরও পড়ুন : নুহর পর অশান্ত বিহার, এবার নাগপঞ্চমীর জুলুসে হামলা! দেদার চলল পাথর বৃষ্টি

অভিযুক্তর বাড়ি ভাঙচুর করল হিন্দু সংগঠন : কিশোরীকে মাথা থেঁতলে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যুব শাখা বজরং দলের বিরুদ্ধে। গতকাল রাতে মাটিগাড়ার পালপাড়ার লেলিন কলোনি এলাকায় অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে আশপাশের দু-একটি বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এলাকায় বিশাল পুলিসবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও ঘটনায় বজরং দলের সদস্যরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।