বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের মুখে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বড় চমক। শনিবার তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরলেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম নূর (Mausam Noor)। এপ্রিল মাসে তাঁর রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস দপ্তরে গিয়ে জয়রাম রমেশ ও মালদহ দক্ষিণের সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে দলে যোগ দেন তিনি। সাংবাদিক বৈঠকে মৌসম জানান, গণিখান চৌধুরীর ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত এবং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি ইতিমধ্যেই ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন, সোমবার রাজ্যসভা থেকেও ইস্তফা দেবেন।
মৌসম নূরকে (Mausam Noor) ঘরওয়াপসির প্রস্তাব
রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, রাজ্যসভায় পুনরায় মনোনয়ন না পাওয়ার আশঙ্কা করেই কি কংগ্রেসে ফিরলেন মৌসম (Mausam Noor)? তবে সূত্র বলছে সম্ভবত তা নয়, কারণ মৌসম সংখ্যালঘু নেত্রী। একজন সংখ্যালঘু নেত্রীকে রাজ্যসভায় মনোনয়ন না দেওয়ার ঝুঁকি হয়তো তৃণমূল নিত না। তবে তৃণমূলে মৌসুম যে খুব গুরুত্ব পাচ্ছিলেন তাও নয়। সম্ভবত দলীয় অন্দরে বনিবনার অভাবই তাঁর দলবদলের বড় কারণ। ভোটের আগে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এই নতুন সমীকরণেই কংগ্রেস মৌসমকে ঘরওয়াপসির প্রস্তাব দেয়।
উল্লেখ্য, মালদহের রাজনীতিতে মৌসম নূরের (Mausam Noor) নাম নতুন নয়। ২০০৯ সালে কংগ্রেসের প্রতীকে মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৪ সালেও ‘হাত’ প্রতীকে জয় পান মৌসম। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বড় মোড় নেয় পরিস্থিতি। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলের প্রতীকে প্রার্থী হওয়ায় মালদহ উত্তর হাতছাড়া হয় তাঁর। ত্রিমুখী লড়াইয়ে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় জয় পান বিজেপি প্রার্থী খগেন মুর্মু। তার পরেই তৃণমূল তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মনোনীত করে। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে আর প্রার্থী করা হয়নি। এমনকি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও প্রার্থী হওয়া নিয়ে জল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত টিকিট পাননি তিনি।
মৌসম নূর মালদহের প্রয়াত কংগ্রেস নেতা বরকত গনি খানের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত কোতওয়ালি পরিবারের সদস্য। এই পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই মালদহে কংগ্রেস রাজনীতির অন্যতম ভরসা হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে বরকত গনি খানের পরিবারের উত্তরসূরি ঈশা খান চৌধুরীই পশ্চিমবঙ্গ থেকে কংগ্রেসের একমাত্র লোকসভা সাংসদ।

তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মৌসম নূরের (Mausam Noor) কংগ্রেসে ফেরায় মালদহে দলের সংগঠন নতুন করে শক্ত করার সুযোগ পাবে কংগ্রেস। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এক মুখ হারিয়ে তৃণমূল যে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে, তা স্পষ্ট। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই রাজনৈতিক পুনর্মিলন মালদহের ভোটের অঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।












