বাংলা হান্ট ডেস্ক : মায়ের অপেক্ষায় দিন গুনছে দুই সন্তান। আর স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়ার আশায় ছুটে চলেছেন শুভ্রাংশু রায় (Subhranshu Roy)। এক মাস ধরে কোনও সন্ধান নেই শর্মিষ্ঠা রায় ভৌমিকের। নেপালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনও তথ্য না মেলায় উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে পরিবারের।
স্ত্রীকে পেতে এবার প্রধানমন্ত্রী দ্বারস্থ শুভ্রাংশু(Subhranshu Roy)
পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবার কেন্দ্রীয় স্তরে সাহায্যের আবেদন জানাতে চলেছেন শুভ্রাংশু। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর আশা, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে নিখোঁজ শর্মিষ্ঠার সন্ধানে আরও সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। এর আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন শুভ্রাংশু। ইতিমধ্যে দুবার তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশমন্ত্রকের মাধ্যমে নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। কিন্তু এতদিনেও স্ত্রী সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনও খবর না পাওয়ায় আর অপেক্ষা করতে চাইছেন না শুভ্রাংশু। তিনি বলেন, “একমাস হয়ে গেল স্ত্রীর কোনও সংবাদ নেই। উৎকণ্ঠায় গোটা পরিবার। তাই ঠিক করেছি, প্রধানমন্ত্রী-সহ সকলকে চিঠি লিখব। সকলের কাছে অনুরোধ, আমার দুই সন্তানের মাকে ফিরিয়ে দিন।”
প্রসঙ্গত, ২৬ অগস্ট নেপালে ভয়াবহ হড়পা বান ও বিপর্যয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। সেই দিন ভোরেই চিন সীমান্তের দিকে যাত্রা করার কথা ছিল শর্মিষ্ঠাদের। বিপর্যয়ের আগে শেষবার পরিবারের সঙ্গে তাঁর যে যোগাযোগ হয়েছিল, সেখান থেকে শুভ্রাংশুর দাবি, তিনি তখন নিরাপদে চিনের দিকেই এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরই সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে শর্মিষ্ঠার কোনও খোঁজ নেই।
বিপর্যয়ের পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় তাঁর নাম পাওয়া যায়নি। মৃতদের তালিকাতেও তাঁর নাম নেই। ফলে তিনি ঠিক কোথায় রয়েছেন, আদৌ কোনও নিরাপদ জায়গায় পৌঁছতে পেরেছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। পরিবারের কাছে এই অনিশ্চয়তার সবচেয়ে কঠিন দিক হল, কোনও সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত করে নেওয়ার মতো তথ্য নেই। আশা ছাড়তে নারাজ রায় পরিবার।

আরও পড়ুন : পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে জেল থেকে পালিয়েও হল না রক্ষা! এনকাউন্টারে খতম কুখ্যাত গ্যাংস্টার
শর্মিষ্ঠার সংসারে রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলেটি এখনও ছোট। অন্যদিকে মেয়ে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। মায়ের অনুপস্থিতিতে আপাতত ছোট ভাইয়ের দায়িত্ব অনেকটাই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে দিদি। প্রতিদিনই মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে দুই সন্তান। পরিবারের এই অপেক্ষার মধ্যে এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছতে চলেছে শুভ্রাংশুর আবেদন। কোথায় রয়েছেন শর্মিষ্ঠা—এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অপেক্ষাতেই এখন দিন কাটছে গোটা পরিবারের।













