বাংলাহান্ট ডেস্ক: দীর্ঘদিনের শুল্কযুদ্ধ ও টানাপোড়েনের পর আমেরিকা (America) ও চিনের (China) সম্পর্কে ফের বাণিজ্যিক সমঝোতার ইঙ্গিত। হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump-Xi Jinping) এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশ একে অপরের প্রায় ৩০০০ কোটি ডলারের অ-সংবেদনশীল পণ্যে আরও অনুকূল শুল্ক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। অর্থাৎ দুই দেশের বাণিজ্য মিলিয়ে এই ব্যবস্থার আওতায় আসছে প্রায় ৬০০০ কোটি ডলারের পণ্য। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যেতে ‘ইউএস-চায়না বোর্ড অফ ট্রেড’কে আরও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মার্কিন পণ্যের মধ্যে কৃষিজাত সামগ্রী, মাছ, কাঠ, প্রসাধনী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম যেমন রয়েছে, তেমনই চিনা পণ্যের ক্ষেত্রেও গৃহস্থালির যন্ত্রপাতি, খেলনা-সহ একাধিক সামগ্রী এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে।
ট্রাম্প-জিনপিং (Donald Trump-Xi Jinping) বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর
বৈঠকের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল বর্তমান বাণিজ্যিক ‘ট্রুস’-এর মেয়াদ আরও বাড়ানো। এর ফলে দুই দেশ বৃহত্তর একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় পাচ্ছে। মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্টের মতে, এই সময়কে কাজে লাগিয়ে আরও বিস্তৃত সমঝোতার দিকে এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার বৈঠকের পর দুই রাষ্ট্রনেতা নৈশভোজেও অংশ নেন। সেখানে সরকারি আধিকারিকদের পাশাপাশি প্রযুক্তি দুনিয়ার একাধিক পরিচিত মুখও উপস্থিত ছিলেন। অ্যালফাবেটের সুন্দর পিচাই, মাইক্রোসফটের সত্য নাদেলা, এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যানের মতো ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি বৈঠকের বাণিজ্য ও প্রযুক্তি—দুই দিকের গুরুত্বই সামনে এনেছে (Donald Trump-Xi Jinping)।
আরও পড়ুন: জঙ্গিদের প্রশ্রয় দেওয়ার ফল! সন্ত্রাসবাদের কারণে সব থেকে বেশি ক্ষতি পাকিস্তানেরই, সামনে এল রিপোর্ট
শুধু শুল্ক নয়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন ও বেজিং। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা, ঝুঁকি এবং নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি বিশেষ সংলাপ চালু হবে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে এই বিষয়ে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনও বড় ধরনের নিরাপত্তাজনিত ঘটনা ঘটলে দুই দেশের আধিকারিকদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের জন্য আলাদা একটি ব্যবস্থাও তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে। হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অনুযায়ী, এই নতুন প্রযুক্তিগত পরিসরকে ‘আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর বদলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামে উল্লেখ করার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে।
বৈঠকে বাণিজ্য ও প্রযুক্তির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন বা APEC এবং G20-র মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে একে অপরকে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে দুই দেশ। দুই রাষ্ট্রনেতাই ভবিষ্যতে পরস্পরের আয়োজিত শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ে আলোচনায় দুই পক্ষের অবস্থানও সামনে এসেছে। কোনও দেশ বা প্রতিষ্ঠান যাতে একতরফাভাবে আন্তর্জাতিক জলপথে ট্রানজিট টোল বসাতে না পারে, সেই নীতির পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে ওয়াশিংটন ও বেজিং। ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের বাইরেও এই বৈঠক থেকে একাধিক বিষয়ে সমন্বয়ের বার্তা মিলেছে।

তবে এই সমঝোতার পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সংঘাতের ইতিহাস। ২০১৮ সাল থেকে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি, চিনের বাণিজ্যনীতি এবং মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে একের পর এক শুল্ক চাপানো শুরু হয়। পাল্টা ব্যবস্থা নেয় বেজিংও। বিরল খনিজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের রফতানি নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে মার্কিন সংস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ—পরিস্থিতি ক্রমে আরও জটিল হয়েছে। সেই জায়গা থেকেই এবার ধীরে ধীরে আলোচনার টেবিলে ফিরছে বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি। নতুন সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য চুক্তিতে কতটা গড়ায়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের Donald Trump-Xi Jinping)।













