টাইমলাইনভারতরাজনীতি

দুর্গা পুজো করায় মুসলিম মহিলাকে পরিবার সহ জ্যান্ত জ্বালানোর হুমকি! আতঙ্কে রুবি খান

বাংলাহান্ট ডেস্ক : নবরাত্রিতে ব্রত এবং দুর্গাপূজা করার ‘অপরাধে’ উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) আলিগড়ে (Aligarh)এক মুসলিম মহিলার উপর জারি করা হল ফতোয়া। তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হল। এমনকি তাঁর গোটা পরিবারকেও জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হবে, এমন লিখে লাগান হল পোস্টার। তিনি পুলিসে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে খবর। জানা যাচ্ছে, এর আগে রুবি আসিফ খান নামে ওই মুসলিম মহিলা নিজের বাড়িতে ভগবান গণেশের মূর্তি স্থাপন করেন। আর তারপরই মুসলিম ধর্মগুরুদের আক্রমণের মুখে পড়েন তিনি।

ওই মহিলা জানান, হিন্দুদের সমস্ত উৎসবই তিনি সমস্ত রীতি মেনেই পালন করেন। এবং ভবিষ্যতেও তিনি তাই করবেন। এই ঘটনার আগেই রুবির গণেশ পূজা করার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেন মুফ্তি আরশাদ ফারুকী। তাঁর বক্তব্য মুসলিমরা শুধুমাত্র আল্লাহেরই উপাসনা করতে পারে, অন্য কারুর নয়। এই বারে রুবির বাড়ির বাইরে যে পোস্টার পড়েছে সেখানে লেখা আছে, ‘রুবি আসিফ খান কাফের হয়ে গেছে। সে পূজা করে। যজ্ঞ করে। বন্দেমাতরম বলে। একে ইসলাম থেকে বের করে দাও। পরিবারসহ জীবন্ত জ্বালিয়ে দাও। আমরা সাচ্চা মুসলমান। আমরা জামাতুল মুসলমান।’

এই ঘটনাটি ঘটেছে আলিগড়ের রোরাওয়ার এলাকায়। ভারতীয় জনতা পার্টির মহিলা মোর্চার প্রধান রুবি আসিফ খান এবং তাঁর স্বামী আসিফ খান নিজেদের বাড়িতে দুর্গা মূর্তির প্রতিষ্ঠা করেছেন। শাহজমল এলাকার এডিএ কলোনির ওই দম্পতি থাকেন। বাজার থেকে একটি দুর্গা মূর্তি কিনে বাড়িতে স্থাপন করার পরই মুসলিম সমাজের রোষের মুখে পড়েন তাঁরা।

রুবি আসিফ খান বলেন, ‘আমি বাড়িতে দুর্গা প্রতিমা স্থাপন করেছি। কোনও রকম ধর্মীয় বিভেদ আমি মানি না। সমস্ত ধর্মের উৎসবই আমি পালন করি। এটা আমার মনের বিশ্বাস। আমার ভালোলাগে সমস্ত উৎসবে অংশ নিতে।’ তিনি আরও জানান, তাঁর পূজা করা নিয়ে অনেকেরই সমস্যা। এর আগেও নাকি তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করা হয়েছে।

মুসলিম ধর্মের মানুষ হয়ে পূজা করাকে ঠিক মেনে নিতে পারে নি মুসলিম সমাজ। রুবির এই হিন্দু দেবদেবীর পূজা করার বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা মুসলিম ধর্মগুরু সাহারানপুরের মুফতি আরশাদ ফারুকীকেও ছেড়ে কথা বলেন নি তিনি। ফারুকীর উদ্দেশ্যে রুবি বলেন, ‘এই মানুষগুলো দেশকে বিভক্ত করতে চাইছে। এই রকম মৌলবিরা কোনও দিনই সত্য মুসলিম হতে পারেন না। এরা সব উগ্রবাদী। এরা সবাই জেহাদি মানসিকতার দাস। এরা ভারতে থেকেও ভারতের কথা বলে না।এই সমস্ত জেহাদিরাই ফতোয়া জারি করে। যদি এরা সত্যিই মুসলমান হতেন তাহলে এই রকম কথা বলতেনই না।

Related Articles