বাংলাহান্ট ডেস্ক: মঙ্গল গ্রহে দেখা এই তথাকথিত ‘লুকানো দরজা’ নিয়ে সাম্প্রতিক দিনে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও জল্পনা তুঙ্গে। এবার সেই নিয়ে ব্যাখ্যা দিল নাসা (NASA) পৃথিবী থেকে প্রায় ২০ কোটি মাইল দূরে লাল গ্রহে কি কোনও অজানা প্রাণের বসবাস ছিল, নাকি এটি কোনও প্রাচীন সভ্যতার চিহ্ন—এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ কেউ একে পৃথিবীর হরপ্পা বা মহেঞ্জোদারোর মতো হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার সঙ্গে তুলনা করছেন, আবার অনেকের কল্পনায় এটি ভিনগ্রহীদের কোনও গোপন ঘাঁটি। এই রহস্যের সূত্রপাত নাসার কিউরিওসিটি রোভারের তোলা একটি ছবিকে ঘিরে, যা নতুন করে ভাইরাল হওয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
মঙ্গল গ্রহের রহস্যজনক দরজা নিয়ে ব্যাখ্যা নাসার (NASA):
ভাইরাল হওয়া ছবিটি নাসার (NASA) কিউরিওসিটি রোভার ২০২২ সালের মে মাসে তুলেছিল। রোভারের মাস্ট ক্যামেরায় ধরা পড়া এই ছবিতে মঙ্গল গ্রহের একটি পাথুরে পাহাড়ের গায়ে আয়তাকার আকৃতির একটি গর্ত দেখা যায়, যা দূর থেকে দেখতে অবিকল কোনও গোপন দরজার মতো। মঙ্গল গ্রহ পৃথিবী থেকে প্রায় ২০০ মিলিয়ন মাইল দূরে হওয়ায় এমন একটি গঠন মানুষের কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ছবি প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই দাবি করেন, এটি হয়তো কোনও ভিনগ্রহী সভ্যতার প্রবেশপথ বা মানুষের আগে সেখানে বসবাসকারী কোনও প্রাণীর তৈরি কাঠামো।
আরও পড়ুন:২০২৬-র শুরুতেই মোবাইল খরচে আগুন! বাড়ছে জিও-এয়ারটেল-ভি-র রিচার্জ প্ল্যান
তবে এই জল্পনার বাস্তব ভিত্তি নেই বলেই জানিয়েছে নাসা এবং মহাকাশবিজ্ঞানীরা। নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ছবিতে দেখা তথাকথিত দরজাটি কোনও কৃত্রিম কাঠামো নয়। এটি আসলে প্রাকৃতিক শিলা ভাঙনের ফল। ক্ষয়, তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং শিয়ার স্ট্রেসের কারণে পাথরের মধ্যে এমন ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এই গর্তটির উচ্চতা প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার—আকারে এটি একটি ছোট কুকুরের জন্য তৈরি দরজার সমান। আশপাশের পাথরে আরও বেশ কয়েকটি সরলরেখার মতো ভাঙন দেখা যায়, যার দুইটির সংযোগস্থলেই এই আয়তাকার গর্তটি তৈরি হয়েছে।
Nothing to see here, just the NASA Curiosity Rover inadvertently finding a hidden door on Mars, 200,000,000 odd miles away. pic.twitter.com/teK5QssIzN
— Concerned Citizen (@BGatesIsaPyscho) December 20, 2025
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ‘প্যারিডোলিয়া’ নামক এক মানসিক প্রবণতার উদাহরণ। এই প্রবণতায় মানুষের মস্তিষ্ক প্রাকৃতিক কোনও গঠনকে পরিচিত কোনও বস্তু হিসেবে ব্যাখ্যা করে, যেমন মেঘে মুখ বা পাথরে দরজার অবয়ব। কোটি কোটি বছর ধরে মঙ্গল গ্রহে প্রবল বাতাস ও আবহাওয়ার প্রভাবে এমন অদ্ভুত অথচ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক আকৃতির সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা।

আরও পড়ুন:শীতের দিনে হালকা খাবার চাই? মাশরুমের সহজ রেসিপিতে মিলুক তৃপ্তি, জানুন প্রণালী
নাসার কিউরিওসিটি রোভার ২০১২ সাল থেকে মঙ্গল গ্রহের গেল ক্রেটারে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। ভাইরাল হওয়া ছবিটি তোলা হয়েছিল ‘ইস্ট ক্লিফস’ নামে পরিচিত একটি অঞ্চলে, যেখানে প্রাচীন জলের উপস্থিতির স্তরগুলি নিয়ে গবেষণা চলছে। নাসা জানিয়েছে, এই ধরনের শিলা গঠন মঙ্গল গ্রহের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। তবে এর সঙ্গে ভিনগ্রহী প্রাণ বা কোনও হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার কোনও সম্পর্ক নেই বলেই বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করেছেন।












